মধ্য কলকাতার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের দফতর (ইউনিয়ন রুম) থেকে উদ্ধার হলো ব্যাগভর্তি বান্ডিল বান্ডিল টাকা। উদ্ধার হওয়া সেই নোটগুলির বেশিরভাগই উই পোকায় কাটাকুটি করে নষ্ট করে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের আলমারি থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
টাকা উদ্ধারের খবর পাওয়া মাত্রই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকেরা ব্যাগভর্তি টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন।
ভর্তি-দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ সজল ঘোষের
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র ভর্তির নাম করে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি চালিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া উই ধরা নোটগুলির মোট অঙ্ক কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে তাঁর অনুমান।
উল্লেখ্য, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন বিধায়ক সজল ঘোষ।
ছাত্র সংসদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে অসঙ্গতি
বিজেপি বিধায়ক কলেজের ছাত্র সংসদের একটি ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের তথ্য তুলে ধরে একাধিক আর্থিক অসঙ্গতির খতিয়ান সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য:
“ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট তহবিলে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা রয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। সাধারণ পড়ুয়াদের সেই চাঁদার টাকা থেকে কোনওভাবেই বছরে দেড় কোটি টাকা ছাত্র সংসদের তহবিলে জমা হওয়া সম্ভব নয়।”
মঙ্গলবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, কলেজে ভর্তি-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের ছাত্রনেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই রহস্যময় টাকার উৎস এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতির কিনারা করা সম্ভব হবে। এই ঘটনায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

