সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE)-র অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে বড়সড় গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। একযোগে তড়িঘড়ি বদলি করা হলো বোর্ডের শীর্ষ দুই আধিকারিক—চেয়ারম্যান রাহুল সিংহ এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে। পাশাপাশি, খাতা মূল্যায়নের প্রযুক্তিগত বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।
ওএসএম প্রযুক্তি ও এক সদস্যের তদন্ত কমিটি
ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্য ওএসএম (OSM) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে কোন নিয়মে তৃতীয় পক্ষ বা ‘থার্ড পার্টি’ সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে। এই অনিয়মের তদন্তে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন’-এর চেয়ারপার্সন এস রাধা চৌহানকে নিয়ে এক সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে চেয়ারপার্সন সিবিএসই বা অন্য যে কোনও সরকারি দফতরের আধিকারিকদের সহায়তা নিতে পারবেন এবং সিবিএসই-কে এই কমিটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনাল অ্যান্ড ট্রেনিং’-এর কাছে জমা দিতে হবে।
পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক ও পড়ুয়াদের বিস্ফোরক দাবি
দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই খাতার মূল্যায়ন এবং রেজাল্টের ডিজিটাল প্রতিলিপি আপলোড করা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এর পরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। বোর্ডের ডিজিটাল মূল্যায়নে কোনও আর্থিক বা পদ্ধতিগত অনিয়ম হয়েছিল কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়।
মঙ্গলবার কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিবিএসই-র পোর্টালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম সরব হওয়া দুই পড়ুয়াকে ডেকে পাঠানো হয়। ওই পড়ুয়ারা কমিটির সামনে দাবি করেন, সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়নের পোর্টালটি মোটেও সুরক্ষিত নয়। এর পাশাপাশি ‘কোএম্পট এডুটেক’ নামক সংস্থাকে বরাত দেওয়ার যে দরপত্র (Tender) ডাকা হয়েছিল, তাতেও নিয়মের চরম লঙ্ঘন ও অনিয়ম ছিল। বৈঠকে পড়ুয়াদের এই জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই বোর্ডের দুই শীর্ষ কর্তাকে অপসারিত করার সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
পোর্টাল চালু হতেই তীব্র সাইবার হানা
অন্য দিকে, দীর্ঘ যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে মঙ্গলবারই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের (Revaluation) আবেদনের জন্য পোর্টালটি পুনরায় চালু করা হয়। সিবিএসই-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ৩টে পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
তবে পোর্টাল চালুর পরেই বড়সড় সাইবার হানার শিকার হতে হয় বোর্ডকে। সিবিএসই-র অভিযোগ, পোর্টালটিকে অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ‘ডিনায়েল-অফ-সার্ভিস’ (DoS) হামলা চালানো হয়েছে। এই আক্রমণের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পোর্টালটিতে প্রায় ১৫ লক্ষ ভুয়ো ট্রাফিক বা ‘ফেক হিট’ পাঠানো হয়। এছাড়া সিস্টেমের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইলগুলিতে অননুমোদিতভাবে ঢোকার জন্য (Unauthorized Access) এক লক্ষেরও বেশি বার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

