উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের এক কোচিং সেন্টারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। সোমবার দুপুরে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে কোচিং সেন্টারের দোতলার জানলা ভেঙে বহু পড়ুয়া নীচে ঝাঁপ দেন। এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
পোষ্য দোকানের ওপর কোচিং সেন্টার: হুড়োহুড়িতে ট্র্যাজেডি
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতল ভবনের দোতলায় ওই কোচিং সেন্টারটি অবস্থিত। ভবনটির একতলায় একটি পোষ্য জীবজন্তুর (Pet Shop) দোকান রয়েছে। সোমবার দুপুরে যখন অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তখন কোচিং সেন্টারের ভেতরে বহু পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দোতলার জানলার কাচ ভেঙে সরাসরি নীচে ঝাঁপ দিতে শুরু করেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, বহুতলটি দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং ধোঁয়ার মাঝেই পড়ুয়ারা কার্নিশ ধরে ঝোলার চেষ্টা করছেন। এক পড়ুয়াকে দোতলার ভাঙা জানলা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিশে নামার চেষ্টা করতে দেখা যায়, তবে টাল সামলাতে না পেরে সে সরাসরি নীচে পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে দমকল ও এনডিআরএফ: ঘটনাস্থলে উপমুখ্যমন্ত্রী
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য (SDRF) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-ও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। একে একে পড়ুয়াদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি জানান:
“আমি নিজে ঘটনাস্থলে ১২ থেকে ১৩ জনের মৃতদেহ দেখেছি। উদ্ধার হওয়া সবাইকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভেতরে পুরো ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছিল। মৃতের সঠিক সংখ্যা পরে সরকারিভাবে জানানো হবে।”
তদন্তের নির্দেশ ও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা
কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আহতদেরও উপযুক্ত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

