আগুন জ্বলছে একের পর এক তেল শোধনাগারে! ইউক্রেনের ড্রোন হামলার নিশানা রুশ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা

আগুন জ্বলছে একের পর এক তেল শোধনাগারে! ইউক্রেনের ড্রোন হামলার নিশানা রুশ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা

রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার (Oil Refinery) লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেনীয় ফৌজ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের (Reuters) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের এই জোরালো ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তৈলক্ষেত্রে ভয়াবহ আগুন ধরে গিয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি এই অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু উপগ্রহ চিত্র ও আলোকচিত্রও প্রকাশ করেছে।

বিগত এক মাস ধরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জ়েলেনস্কির বাহিনী কৌশলগতভাবে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে নিশানা করছে। এই ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্রেমলিনের দাবি বনাম উৎপাদনের বাস্তব চিত্র

ইউক্রেনের এই ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রয়টার্সের প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন:

“রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কোনও ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়েনি।”

পাশাপাশি পেসকভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার দেশের সামরিক বাহিনীকে ইউক্রেনের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর প্রত্যাঘাতের নির্দেশ দিয়েছে।

যদিও ক্রেমলিনের এই আশ্বাসের সত্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়ার যে সব তেল শোধনাগারের কাজ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি। অর্থাৎ, দৈনিক প্রায় ২ লক্ষ ৩৮ হাজার টন তেল উৎপাদন থমকে গিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান রুশ শোধনাগারগুলির খতিয়ান

ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে পশ্চিম রাশিয়া থেকে শুরু করে মস্কো এবং ভলগা নদীর তীরবর্তী একাধিক বিশালাকার শোধনাগার গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান শোধনাগারগুলির বিবরণ দেওয়া হলো:

  • কিরিশি তেল শোধনাগার (Kirishi Refinery): এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন। এটি রাশিয়ার মোট তেল শোধন ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৫ শতাংশ)। গত ৫ মে ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে এই মেগা শোধনাগারটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
  • নোরসি তেল শোধনাগার (Norsi Refinery): বার্ষিক ১ কোটি ৭০ লক্ষ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই শোধনাগারটি গত বুধবার ইউক্রেনীয় ড্রোনের শিকার হয়। হামলার পর এখানেও তেল উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
  • অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগার: এছাড়া মস্কো তেল শোধনাগার, ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত নিজ়নি নোভগোরোদ, রিয়াজান এবং ইয়ারোস্লাভল শোধনাগারও ইউক্রেনের এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মুখ সমরের পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ও যুদ্ধকালীন জ্বালানি সরবরাহে টান ধরানোই কিভের এই সুনির্দিষ্ট ড্রোনের কৌশলের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.