চলতি কমনওয়েলথ গেমসের চতুর্থ দিনে এসে প্রথম সোনার পদকের মুখ দেখল ভারত। প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারোত্তোলনে দেশকে এই সাফল্য এনে দিলেন মীরাবাই চানু। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে একাই চারটি নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্নপদক নিজের নামে করেন মণিপুরের এই তারকা অ্যাথলিট। জয়ের পর পদক প্রদান মঞ্চে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
টুর্নামেন্টের প্রথম তিন দিন ভারতীয় প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও, চানু হতাশ করেননি। এর আগে দুই কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং ২০১৪ সালে নিজের প্রথম কমনওয়েলথে রুপো জিতেছিলেন তিনি। ফলে চার বার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চারটি পদকই দেশের ঝুলিতে ভরলেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় স্ন্যাচ ইভেন্টে চানু প্রথম প্রয়াসে ৮২ কেজি তুলতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রয়াসে তা তুলে নতুন রেকর্ড গড়েন। পরের প্রয়াসেই ৮৫ কেজি ভার তুলে নিজের করা রেকর্ড নিজেই ভেঙে দেন। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টেও প্রথম সুযোগে ১০৫ কেজি তুলতে না পারলেও দ্বিতীয় প্রয়াসে তা সফলভাবে তুলে ধরে আরও একটি রেকর্ড গড়েন। সব মিলিয়ে মোট ১৯০ কেজি ভার তুলে চতুর্থ রেকর্ডটি গড়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন চানু।
বিজয় মঞ্চে জাতীয় পতাকার দিকে তাকিয়ে চানুর চোখের জল দেখে গ্যালারিতে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এই স্বর্ণপদকের হাত ধরে পদক তালিকায় এক লাফে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। টুর্নামেন্টে ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩টি (১টি সোনা, ১টি রুপো ও ১টি ব্রোঞ্জ)।
অন্যদিকে, চানুর পদক জয়ের আগেই ভারোত্তোলনে পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে ভারতকে রুপো এনে দেন নিশিকান্ত সিংহ। নিজের প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে নেমে তিনি স্ন্যাচে ১২১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৩ কেজি—সব মিলিয়ে মোট ২৬৪ কেজি ভার তোলেন। এই বিভাগে ২৭৩ কেজি তুলে সোনা জেতেন কেনিয়ার জোশুয়া এমবোয়া।

