ফুটবল মাঠে তিনি জাদুকর। ফিফা থেকে ব্যালন ডি’অর—অসংখ্যবার বিশ্বের সেরা ফুটবলারের শিরোপা উঠেছে তাঁর হাতে। কিন্তু সাফল্যের শিখরে থেকেও একটি অপূর্ণতা প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায় লিয়োনেল মেসিকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা অকপটে স্বীকার করেছেন, ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখার জন্য আজ তিনি অনুতপ্ত।
‘অর্ধেক উপেক্ষিত’ বোধ করেন মেসি
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুরস্কার নিতে উঠলেও মেসিকে সবসময় তাঁর মাতৃভাষা স্প্যানিশেই কথা বলতে দেখা গেছে। ইংরেজি কিছুটা বুঝতে পারলেও সাবলীলভাবে বলতে পারেন না তিনি। একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ প্রকাশ করে মেসি বলেন, “জীবনে অনেক কিছু নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখা। অথচ আমার কাছে পর্যাপ্ত সময় ছিল। আমি সেটা করিনি।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বড় অনুষ্ঠানে বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা হলেও ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি। মেসির ভাষায়, “এমন অনেক পরিস্থিতি হয়েছে যেখানে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দক্ষ ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে না পেরে নিজেকে অর্ধেক উপেক্ষিত মনে হয়েছে। তখন ভেবেছি, আমি কত বড় নির্বোধ! কীভাবে সময় নষ্ট করেছি।”
বার্সেলোনার সেই দিনগুলি
আর্জেন্টিনার রোসারিও থেকে খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন মেসি। সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগও ছিল। মেসি জানান, সেই আবাসিক স্কুলে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেননি।
সন্তানদের দিচ্ছেন পড়াশোনার পাঠ
নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন নিজের সন্তানদের পড়াশোনা ও ভাষাশিক্ষার গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন মেসি। তিনি বলেন, “বয়স কম থাকলে অনেক সময় বিষয়গুলোর গুরুত্ব বোঝা যায় না। আজ আমি সন্তানদের সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বলি। আমার শৈশবে অভাব ছিল না ঠিকই, তবে ওরা এখন যে সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বড় হচ্ছে, তা আমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
বর্তমান প্রেক্ষাপট
লিয়োনেল মেসি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। সম্প্রতি মেজর লিগ সকারের (MLS) প্রথম ম্যাচে তাঁর দল পরাজিত হয়েছে। সেই ম্যাচে বেশ কয়েকবার মেজাজ হারাতেও দেখা গেছে ফুটবল সম্রাটকে। তবে মাঠের লড়াকু মানসিকতার আড়ালে ভাষাগত এই আক্ষেপ তাঁর মানবিক ও বিনয়ী দিকটিই তুলে ধরেছে।

