দেশের জ্বালানি নীতিতে বড়সড় বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E-20) বিক্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। একই সঙ্গে এই পেট্রলে ‘রিসার্চ অকটেন নম্বর’ (RON) ন্যূনতম ৯৫ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির মূল নির্যাস
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তেল সংস্থাগুলিকে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ (BIS)-এর মানদণ্ড মেনে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত মোটর স্পিরিট বা পেট্রল সরবরাহ করতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য সীমিত সময়ের জন্য এই নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে থাকবে।
উচ্চ ‘অকটেন নম্বর’ কেন জরুরি?
ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বাড়াতেই ন্যূনতম RON 95 নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- নকিং প্রতিরোধ: ‘রিসার্চ অকটেন নম্বর’ হলো ইঞ্জিনে জ্বালানি দহনের সময় অকাল বিস্ফোরণ বা ‘নকিং’ প্রতিরোধের ক্ষমতা। কম মানের জ্বালানি অসমভাবে পুড়লে ইঞ্জিনে শব্দ হয় এবং ক্ষতি হয়।
- স্থায়িত্ব: ইথানলের প্রাকৃতিক অকটেন মান প্রায় ১০৮। পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মিশলে জ্বালানির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা আধুনিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের জন্য উপযোগী।
লক্ষ্য: আমদানি হ্রাস ও কৃষকদের সমৃদ্ধি
ব্রাজিল ও আমেরিকার ধাঁচে ভারতও ২০২২ সাল থেকে পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ বাড়াতে শুরু করেছে। ১. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর ফলে বছরে তেল আমদানি খাতে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে কেন্দ্র। ২. কৃষকদের সুবিধা: আখ, ভুট্টা ও উদ্বৃত্ত শস্য থেকে ইথানল তৈরি হয়। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপে ১.৬৫ কোটি টন শস্য ব্যবহৃত হবে, যা সরাসরি কৃষকদের উপার্জনে সহায়ক হবে। ৩. চিনি শিল্প: প্রায় ৬০ লক্ষ টনের বেশি উদ্বৃত্ত চিনি ইথানল তৈরিতে ব্যবহৃত হবে, ফলে বাজারে চিনির দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে। ৪. পরিবেশ: ইথানল একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য এবং বিশুদ্ধ জ্বালানি হওয়ায় বায়ু দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
গাড়ি শিল্পে প্রস্তুতি
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিলের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ই-২০ (E-20) জ্বালানি উপযোগী গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে তৈরি সমস্ত নতুন গাড়ির ইঞ্জিন এই জ্বালানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ যোগ্য হবে।
প্রশ্নচিহ্ন ও বিতর্ক
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে আমদানির খরচ কমলেও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির সুবিধা কি সাধারণ ক্রেতারা পাবেন? ইথানল পেট্রলের চেয়ে সস্তা হওয়া সত্ত্বেও তেলের চড়া দাম কেন কমছে না, সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনও সদুত্তর মেলেনি।

