আইপিএলে শুধুমাত্র ভালো ক্রিকেট খেলা নয়, মাঠের ভেতরে শৃঙ্খলাপরায়ণ আচরণের জন্য দলগুলিকে বিশেষ পুরস্কৃত করে বিসিসিআই। কিন্তু রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচের একটি ঘটনার জেরে আইপিএলের ফেয়ার প্লে র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধাক্কা খেল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। চার নম্বর অবস্থান থেকে এক লাফে আট নম্বরে নেমে গেছে শ্রেয়স আয়ারের দল।
কেন এই পতন?
রবিবারের ম্যাচে কেকেআর ব্যাটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দৌড়ানোর সময় ইচ্ছাকৃতভাবে দিক পরিবর্তন করায় আইপিএলের আচরণবিধির ২.২ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। এর ফলে দলের ‘স্পিরিট অফ গেম’ থেকে আম্পায়াররা ১ পয়েন্ট কেটে নেন। গড় পয়েন্ট কমে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বরে নেমে যেতে হয়েছে নাইটদের।
ফেয়ার প্লে পয়েন্টের নিয়ম ও মূল্যায়ন:
আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচের পর দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার এবং তৃতীয় আম্পায়ার দলগুলির আচরণ মূল্যায়ন করে পয়েন্ট দেন। প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব, যা চারটি ভাগে বিভক্ত:
- স্পিরিট অফ গেম (৪ পয়েন্ট): খেলার সামগ্রিক মনোভাব ও স্লেজিংমুক্ত আচরণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
- প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান (২ পয়েন্ট)
- খেলার নিয়ম মেনে চলা (২ পয়েন্ট)
- আম্পায়ারদের প্রতি সম্মান (২ পয়েন্ট)
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মোট পয়েন্টের পরিবর্তে ‘গড় পয়েন্ট’ (Average Point) বিবেচনা করা হয়, যাতে বেশি ম্যাচ খেলা দলগুলি বাড়তি সুবিধা না পায়।
বর্তমান পয়েন্ট টেবিল (৩৮তম ম্যাচের পর):
বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংস এবং পঞ্জাব কিংস ১০ গড় পয়েন্ট নিয়ে যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে। তালিকায় কেকেআর-এর বর্তমান অবস্থান নিম্নরূপ:
| অবস্থান | দল | ম্যাচ | গড় পয়েন্ট |
| ১ (যুগ্ম) | চেন্নাই সুপার কিংস | ৮ | ১০ |
| ১ (যুগ্ম) | পঞ্জাব কিংস | ৭ | ১০ |
| ৩ (যুগ্ম) | গুজরাত টাইটান্স | ৮ | ৯.৮৮ |
| ৩ (যুগ্ম) | রাজস্থান রয়্যালস | ৮ | ৯.৮৮ |
| ৮ | কলকাতা নাইট রাইডার্স | ৮ | ৯.৬৩ |
ইতিহাস ও পরিসংখ্যান:
আইপিএলের ইতিহাসে চেন্নাই সুপার কিংস সর্বোচ্চ সাতবার ফেয়ার প্লে পুরস্কার জিতেছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস তিনবার করে এই ট্রফি জিতেছে। কেকেআর, আরসিবি এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস—যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইপিএলে অংশ নিচ্ছে, তাদের ক্যাবিনেটে আজ পর্যন্ত কোনো ফেয়ার প্লে পুরস্কার আসেনি।
উল্লেখ্য যে, ফেয়ার প্লে পুরস্কারের সঙ্গে প্লেঅফে ওঠার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি প্রতিযোগিতার ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে না। তবুও, মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।

