ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম তুলে নিল জামশেদপুর এফসি। শুক্রবার এক বিবৃতি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী মরসুমের আইএসএলে আর মাঠে নামতে দেখা যাবে না ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটিকে।
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) নিয়ম অনুযায়ী, আগামী মরসুমে আইএসএল খেলার জন্য প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ক্লাবকে ফি বাবদ ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার ছিল এই অর্থ জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে জামশেদপুর এফসি ফেডারেশনকে অর্থ জমা না দিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়।
উল্লেখ্য, জামশেদপুর ও ইন্টার কাশী ব্যতীত বাকি সব ক্লাব ইতিমধ্যেই এই অর্থ জমা দিয়েছিল। শুক্রবার শেষ দিনে ইন্টার কাশী তাদের ফি পরিশোধ করলেও জামশেদপুর সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেয়।
পরিচালন সমিতির সিদ্ধান্ত ও নেপথ্যের কারণ
সূত্রের খবর, জামশেদপুর এফসির বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের বৈঠকেই শীর্ষ দলকে (First Team) টুর্নামেন্টে না নামানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যদিও এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে ফেডারেশন ও আইএসএল ক্লাবগুলির মধ্যে লিগ পরিচালনার স্বত্ব ও সত্তাধিকার নিয়ে যে দরকষাকষি চলছিল, সেই সময় থেকেই জামশেদপুর কর্তারা প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন।
তবে আইএসএল থেকে সরে দাঁড়ালেও ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে ফুটবলের উন্নয়নে তাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। তৃণমূল স্তর থেকে নতুন ফুটবলার তুলে আনার যে প্রক্রিয়া, তা আগের মতোই চালু রাখবে ক্লাব। পাশাপাশি, যে সকল ফুটবলার ও কোচের সঙ্গে বর্তমানে চুক্তি রয়েছে, তাঁদের চুক্তিভিত্তিক সমস্ত বেতন ও বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সমর্থকদের ক্ষোভ ও হতাশা
২০২২ সালে লিগ-শিল্ড জয়ী এই ক্লাবের বিদায়ের সিদ্ধান্তে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ও হতাশ ক্রীড়াপ্রেমী এবং লাল-হলুদ-নীল ব্রিগেডের সমর্থকেরা। আইএসএলের যে কয়েকটি দলের হোম ম্যাচে গ্যালারি পূর্ণ থাকত, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স। জামশেদপুর শহরের ক্রীড়া পরিচিতির এক অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই ফুটবল ক্লাবটি। আচমকা এই বিদায়ে ঝাড়খণ্ডের ফুটবল মহলে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

