মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট। গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে অন্তত ৬০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র সাঁতরে ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে এই স্পেনীয় ছিটমহলে প্রবেশ করেছেন। অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ়।
সেউতার স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হুয়ান জিসাস ডিভাস জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অনেকেই সমুদ্রে ডুবে মারা গিয়েছেন, আবার অনেকের মৃত্যু হয়েছে বিশৃঙ্খল জনসমুদ্রে পদদলিত হয়ে।
আছড়ে পড়েছে জনস্রোত
১৫৮০ সাল থেকে মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা ছিটমহলটি স্পেনের অধীনে রয়েছে। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডে সেউতা ছাড়াও মেলিলা নামের আরেকটি এলাকা স্পেনের শাসনাধীন। প্রায় ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়শই সীমান্ত পেরিয়ে মরক্কোর অধিবাসীরা ঢোকার চেষ্টা করলেও বৃহস্পতিবার থেকে সেই সংখ্যা রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পায়। আইনি বাধা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি উপেক্ষা করে জল ও স্থল উভয় পথেই দলে দলে মানুষ সেউতায় প্রবেশ করতে থাকেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দৃশ্যচিত্রে দেখা গিয়েছে, অভিবাসীদের একটি বিশাল দল তারাজল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার (ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ) টপকে ও সাঁতরে সেউতার রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ় এক ভাষণে এই ঘটনাকে স্পেনের “ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন” বলে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের বিপদের জন্য মানব পাচারকারী চক্রকেই মূল দায়ী করেছেন তিনি।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের ইতিমধ্যেই অনেকেরই নথিপত্র পরীক্ষা করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উদ্ধারকাজের জন্য সেউতার স্থানীয় প্রশাসন মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত বাহিনীর আবেদন জানায়। সেই সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি সমুদ্রে উদ্ধারকাজের জন্য ডুবুরি দল পাঠাচ্ছে। তবে সমস্ত তৎপরতার পরেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি; সেউতার রাজপথগুলোতে কার্যত এখন হাজার হাজার অভিবাসীর ভিড়।

