ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান এখনই থামছে না, তবে মার্কিন ফৌজ খুব শীঘ্রই সেখান থেকে সরে আসবে। মঙ্গলবার এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ১৭তম দিনে হোয়াইট হাউস থেকে এই বার্তা দিলেন তিনি।
নেটোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সামরিক জোট ‘নেটো’র (NATO) কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার লক্ষে আমেরিকাকে সাহায্য না করায় নেটোর পদক্ষেপকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন তিনি। নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন:
“আমেরিকা প্রতি বছর এই দেশগুলোকে রক্ষা করতে শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে, অথচ বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সমর্থনটুকুও পায় না।”
অবশ্য একই সঙ্গে তিনি দম্ভোক্তি করে জানান যে, এই অভিযানের জন্য ওয়াশিংটনের কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
অভিযানের সময়সীমা নিয়ে ধোঁয়াশা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীও সেই অভিযানে যোগ দেয়। সেই হামলায় খামেনেইসহ ইরানের প্রথম সারির একাধিক নেতা ও সেনাকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যে একাধিকবার সময়সীমার পরিবর্তন দেখা গিয়েছে:
- ২ মার্চ: ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, অভিযান আরও ৪-৫ সপ্তাহ চলতে পারে।
- ১০ মার্চ: তিনি দাবি করেন, অভিযান প্রায় শেষের পথে।
- ১৭ মার্চ (আজ): যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ইঙ্গিত না দিলেও তিনি দ্রুত সরে আসার কথা বলছেন।
প্রশাসনের অন্দরে অস্বস্তি
ইরান যুদ্ধের আবহে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে ইতিপূর্বেই পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সন্ত্রাসদমন কেন্দ্রের প্রধান। অন্যদিকে, ইরান অভিযান শেষ হওয়ার আগেই কিউবা দখলের পরিকল্পনা প্রকাশ করে ট্রাম্প বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেটোর প্রতি ট্রাম্পের এই বিরূপ মনোভাব এবং পশ্চিম এশিয়ায় একতরফা সামরিক নীতি আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

