খাতায়-কলমে ফিফার ক্রমতালিকায় ৯৪ ধাপের বিস্তর ফারাক। এক দলের অবস্থান ৪৪ নম্বরে (পানামা), অন্য দল রয়েছে ১৩৮ নম্বরে (ভারত)। তবে মাঠের খেলায় সেই ব্যবধান এক বিন্দুও বুঝতে দিলেন না খালিদ জামিলের শিষ্যরা। সদ্য বিশ্বকাপ খেলা শক্তিশালী পানামার বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ভারতীয় দলকে। বিশ্বকাপারদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে ফের একবার প্রশংস কুড়াল ‘ব্লু টাইগার্স’রা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের আক্রমণ
ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে ম্যাচের আগে শক্তপোক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দল ঝালাই করে নিতে চেয়েছিলেন কোচ খালিদ জামিল। সেই মতো আয়োজিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দ দেখায় ভারত। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই দু’বার প্রতিপক্ষের বক্সে জোরালো আক্রমণ শানায় ভারতীয় দল। লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়ে চাপে পড়ে ভুল করে ফেলেন উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ খেলা দেশের ডিফেন্ডাররাও। কখনও রায়ান উইলিয়ামসের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আবার কখনও আশিকের শট সরাসরি সাইড নেটে গিয়ে লাগে।
রায়ানের গোলে এগিয়ে যাওয়া
অবশেষে ম্যাচের ৪২ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য পান ভারতের ফুটবলাররা। নিজেদের অর্ধ থেকে বিজয় ভার্গেসেকে থ্রো করেন আকাশ মিশ্র। সেই বল ধরে নিখুঁত লম্বা থ্রু বাড়ান বিজয়। পানামার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আর কোনো ভুল করেননি রায়ান উইলিয়ামস। তাঁর নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে গেলে প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ভারত।
পানামার সমতা ফেরানো
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েন রায়ান, বিক্রমপ্রতাপরা। ভারতীয় দলের এই শারীরিক ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে পানামা। খেলার ৬৮ মিনিটে আক্রমণ শানিয়ে ভারতের রক্ষণ ভাঙতে সফল হয় তারা এবং দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ১-ই ড্র থাকে ম্যাচটি।

