ভোট গণনার প্রতিটি টেবিলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার বা সহকারী হিসেবে নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বৈধ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি কৃষ্ণ রাও তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে বেআইনি কিছু নেই এবং মামলাকারীর পক্ষ থেকে আনা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগগুলি প্রমানহীন। আদালত আরও জানায়, যদি ভবিষ্যতে গণনায় কোনো প্রকার কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা আইনত ‘ইলেকশন পিটিশন’-এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।
তৃণমূলের আপিল ও শুনানি: বৃহস্পতিবার সকালেই তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর প্রধান যুক্তি ছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করা একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত, যা মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি এই প্রক্রিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন। তবে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত কমিশনের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দেয়।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় গণনাকেন্দ্র: রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা সম্পন্ন হবে ৭৭টি কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জেলাভিত্তিক গণনাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের গণনায় নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি: গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, যা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
- স্ট্রংরুমের সুরক্ষা: প্রতিটি স্ট্রংরুমের পাহারায় চব্বিশ ঘণ্টা মোতায়েন থাকছেন অন্তত ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে আগামী ৪ মে ভোটগণনার দিন প্রতিটি কাউন্টিং টেবিলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলো। নির্বাচন কমিশনের মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট’ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

