পঞ্জাবকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় মোহনবাগানের, গোলের সুযোগ নষ্টের রোগে চিন্তা বাড়ল দিমপেরিসের

পঞ্জাবকে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় মোহনবাগানের, গোলের সুযোগ নষ্টের রোগে চিন্তা বাড়ল দিমপেরিসের

আইএসএলে প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মোহনবাগান। টানা তিনটি ম্যাচ জিতে লিগের শীর্ষস্থান দখল করল সবুজ-মেরুন। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পঞ্জাব এফসিকে ২-১ গোলে হারাল তারা। তবে যে ম্যাচে অনায়াসে আরও কয়েকটি গোল করতে পারত মোহনবাগান, সেই ম্যাচেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্য লড়াই করতে হল তাদের। চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে নর্থইস্ট ইউনাইটেড, তৃতীয় বেঙ্গালুরু এফসি। পঞ্জাব চতুর্থ এবং ইস্টবেঙ্গল রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

ম্যাচ জিতলেও মোহনবাগানের পুরনো সমস্যা থেকেই গেল। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারছেন না ফুটবলাররা। শনিবারও লি আরউইন, লিস্টন কোলাসো এবং মনবীর সিংহের একাধিক সুযোগ নষ্ট সেই সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পর্যন্ত অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিল সবুজ-মেরুন। কিন্তু কোনওটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা। উল্টে পঞ্জাবের রাফায়েল মেসি বৌলির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত।

মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস এখন অপেক্ষায় রয়েছেন জেমি ম্যাকলারেনের সুস্থ হয়ে ফেরার। দলের আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলি কাজে লাগানোর জন্য একজন দক্ষ স্ট্রাইকারের অভাব স্পষ্ট। সেই জায়গায় ম্যাকলারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। আরউইন স্ট্রাইকার হিসাবে খারাপ খেলছেন না। কিন্তু গোল করার পাশাপাশি তাঁর সুযোগ নষ্টের সংখ্যাও কম নয়। ম্যাকলারেন ও আরউইনের জুটি কার্যকর হয়ে উঠলে আক্রমণভাগের সমস্যা অনেকটাই মিটতে পারে। পাশাপাশি মিগুয়েল ফিগুয়েরা ফিরলে মাঝমাঠও আরও শক্তিশালী হবে।

পঞ্জাবের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তন করেছিলেন দিমপেরিস। লেফটব্যাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল শুভাশিস বসুকে। রাইটব্যাকে খেলানো হয় অভিষেক সিংহকে। কিন্তু ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই গোল খেয়ে বসে মোহনবাগান। সানথোই সিংহের থ্রো থেকে বল পেয়ে একাই সবুজ-মেরুনের তিন-চার জন ফুটবলারকে কাটিয়ে গোল করেন আলফ্রেড প্লানাস।

গোল খেয়েও অবশ্য ভেঙে পড়েনি মোহনবাগান। তিন মিনিটের মাথায় দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন সামির জেলকোভিচ। যদিও সফল হননি তিনি। এর দু’মিনিট পর কিপগেনের শট আটকে দেন গোলকিপার বিশাল। এই সময় পঞ্জাবের প্রতি-আক্রমণ বেশ কয়েক বার চাপে ফেলেছিল মোহনবাগানের রক্ষণকে।

এর মধ্যেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাহাল সামাদ। তাঁর পরিবর্তে নামেন অনিরুদ্ধ থাপা। ১৬ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে আরউইনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দু’মিনিট পর গোল পায় মোহনবাগান। সামিরের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান আরউইন। সমতা ফেরানোর পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় সবুজ-মেরুন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দূরপাল্লার শটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন দেজান দ্রাজিচ। তাঁর শট পঞ্জাবের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়। বলের নাগাল পাননি গোলকিপার। বিরতির আগেও ব্যবধান বাড়ানোর আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু সেগুলি কাজে লাগেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহনবাগান। তবে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যায় পঞ্জাবও। সুযোগ পেলেই সবুজ-মেরুনের রক্ষণে আক্রমণ শানিয়েছে তারা। মেসি বৌলি এবং করিশ সরাম একের পর এক শট নেন। মেসি বৌলির একটি শট গোলে ঢুকলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল করে দেন রেফারি।

ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে অবশ্য আরও বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। আরউইন, লিস্টন এবং মনবীর পর পর গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। অন্য দিকে, আলফ্রেড প্লানাসের একটি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় আটকে দেন বিশাল। গোলকিপারের সেই সেভ না থাকলে শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ফেলতে পারত পঞ্জাব।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান। টানা তিন ম্যাচ জিতে লিগের শীর্ষে উঠলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার সমস্যা কোচ দিমপেরিসের চিন্তা বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.