১৯৮০ সালে দলের প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এতদিন রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থানের কারণে দলীয় স্তরে পৃথক কোনো শ্রমিক বা ছাত্র সংগঠন রাখেনি পদ্ম শিবির। তবে দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের সেই নীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রমিক সংগঠনের সূচনা করা হলো।
কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠিকাকর্মীদের জন্য গঠিত এই সংগঠনের নামকরণ করা হয়েছে ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর সমাজমাধ্যম পাতায় এটিকে ‘বিজেপি ট্রেড ইউনিয়ন সেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ওয়েবেলের ঠিকাকর্মীদের নিয়েও অনুরূপ একটি পৃথক সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে।
নীতি বদলের প্রেক্ষাপট ও কেন্দ্রীয় নাম না রাখার কৌশল
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরএসএস-অনুমোদিত ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-কেই সহযোগী শ্রমিক সংগঠন হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে বিজেপি। একইভাবে ছাত্র ক্ষেত্রে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এতদিন বিজেপির নিজস্ব কোনো কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আদর্শগত ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আমরা বিশ্বাস করতাম, কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন থাকলে সেই দল ক্ষমতায় এলে শ্রমিকেরা তাঁদের বঞ্চনা বা অধিকার আদায়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারেন না।” তবে নতুন এই সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, “দেশের জন্য কাজ করব এবং কাজের সঠিক প্রাপ্য অধিকার বুঝে নেব— এই মূলমন্ত্র নিয়েই এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নতুন শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় স্তরে এক ছাতার তলায় কোনো একটি নির্দিষ্ট নাম রাখা হচ্ছে না। অঞ্চল এবং ক্ষেত্রভিত্তিক হিসেবেই শাখাগুলির নামকরণ করা হবে।
ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
দমদম বিমানবন্দরে আয়োজিত এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “দলের অফিশিয়ালি প্রথম শ্রমিক সংগঠনের সূচনা হচ্ছে এই বিমানবন্দর থেকে। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য জায়গায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিজেপির এই শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে।”
অতীতে দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন ‘ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন’ (বিজেএমটিইউ) বা বিভিন্ন স্থানীয় সেল গঠিত হলেও তা দলীয় কেন্দ্র বা রাজ্য নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। এটিই প্রথম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে স্বীকৃত শ্রমিক মোর্চা।
কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ: বিএমএস ও নতুন সংগঠনের সমন্বয়
রাজ্যে ইতিপূর্বে সক্রিয় থাকা ‘ট্রেড ইউনিয়ন রিলেশনস সেল’-এর পশ্চিমবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক অরিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নতুন গঠিত বিমানবন্দর ও ওয়েবেলের ঠিকাকর্মী মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান বিএমএস-এর সঙ্গে নতুন সংগঠনের কাজের ক্ষেত্র বণ্টন নিয়ে অরিত্র চট্টোপাধ্যায় জানান, ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস) মূলত সংগঠিত ক্ষেত্রে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। নতুন এই দলীয় শ্রমিক সংগঠনটি কেবল অসংগঠিত ক্ষেত্র— যেমন ঠিকাকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সংগঠিত করে তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

