মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’ (মহাবিযোগ) প্রস্তাব পাস করাল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শনিবার দিল্লির ১০, রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাসভবনে আয়োজিত এক ছদ্ম সংসদে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত মেগা সমাবেশের প্রাক্কালে বিরোধী শিবিরের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ছদ্ম সংসদ ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ
আইনি জটিলতা ও সংসদ অবমাননার বিতর্ক এড়াতে প্রথমে ‘মক পার্লামেন্ট’ নাম ঠিক হলেও পরে তা পরিবর্তন করে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ বা জন মহাবিযোগ রাখা হয়। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের পরিচালনায় এবং পুরনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলের আদলে সাজানো ব্যাকড্রপের সামনে এই অধিবেশন বসে।
এ দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেন বিরোধী নেতারা: १. ভোট চুরির পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র। ২. ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। ৩. সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬ সংশোধন। ৪. ভোটার তালিকার উপর জোর করে একতরফা নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা। ৫. অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। ৬. নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নির্দেশ মতো একপেশেভাবে কাজ করা।
সভায় তিন দফা দাবি পেশ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিভিউ (SIR) বন্ধ করতে হবে এবং ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে হবে।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ও বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ছদ্ম সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁর বিচার হওয়া উচিত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” রাহুল আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীদের জন্য সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁদের বাধ্য হয়ে এই ছদ্ম সংসদের পথ বেছে নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে, এই কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে শাসকদল বিজেপি। বিজেপি সাংসদ ও জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এক সাংবাদিক বৈঠকে কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটে বিজেপিকে হারাতে না পেরে এখন আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চলছে। যদি এতই শখ হয়, তবে এই ছদ্ম সংসদে রাহুল গান্ধীকে কুর্তা-পাজামা পরিয়ে বসিয়ে দিন এবং প্রতিদিন তাঁর গুণগান করুন।”
রবিবারের রামলীলা ময়দান সমাবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
শনিবারের এই ছদ্ম সংসদের মূল লক্ষ্যই ছিল রবিবারের রামলীলা ময়দানের মহাসমাবেশকে সফল করা। এই সমাবেশে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গ ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতানেত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন। সমাবেশে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জোট নেতৃত্ব।
রবিবারের এই মেগা সমাবেশ ঘিরে গোটা চত্বর নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের অনুমান, সমাবেশে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। ভিড় ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রামলীলা ময়দান চত্বরকে ১৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যানজট এড়াতে আইটিও, দিল্লি গেট, রাজঘাট ও আজমেরি গেট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

