রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ: একযোগে অপসারিত ৭৩ রিটার্নিং অফিসার

রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ: একযোগে অপসারিত ৭৩ রিটার্নিং অফিসার

লোকসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার এক নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপসারিত এই আধিকারিকদের মধ্যে সিংহভাগই মহকুমাশাসক (SDO) পদমর্যাদার।

গুরুত্বপূর্ণ মহকুমায় নতুন মুখ

কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহকুমায় নতুন আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর, হুগলি সদর, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর এবং আসানসোলে নতুন এসডিও (SDO) দায়িত্ব নিয়েছেন।

নবনির্বাচিত আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন:

  • তুফানগঞ্জ: শান্তনু কর্মকার
  • জলপাইগুড়ি: নির্মল ঘরামি
  • ব্যারাকপুর: যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল
  • হাওড়া সদর: বিবেক পঙ্কজ

জেলাশাসক ও পুলিশ স্তরে ধারাবাহিক বদল

উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের ১১টি জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকদের সরিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিল দিল্লির এই সাংবিধানিক সংস্থা। শুধু জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকই নয়, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মতো শীর্ষপদের আধিকারিকদেরও পরিবর্তন করা হয়েছে।

আইনি লড়াই ও কমিশনের অবস্থান

কমিশনের এই গণ-বদলির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এক্তিয়ার এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পাল্টা যুক্তিতে কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান:

“অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দেশের পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে এবং প্রতিটি জায়গার পরিস্থিতি ভিন্ন। পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট কারণের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

অন্যদিকে, নবান্ন অপসারিত আধিকারিকদের নতুন পদে পুনর্বহাল করলেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, বারংবার এই বদলি প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.