ফের এক মেধাবী পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নাগপুরে। পরীক্ষার প্রচণ্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIIT) নাগপুরের এক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হস্টেলের ৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কালমেশ্বর এলাকার হস্টেল চত্বরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম শ্রেয়স চন্দ্রকান্ত মানে (২০)। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গতকাল গভীর রাতে হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা শ্রেয়সকে ৯ তলা থেকে নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও মৃত্যুর কারণ
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চরম উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন শ্রেয়স। তাঁর ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার না হলেও, সহপাঠীদের বয়ান এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা যে, পরীক্ষার অতিরিক্ত মানসিক চাপই তাঁকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও শোকের ছায়া
ইতিমধ্যেই নাগপুরের কালমেশ্বর থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ছাত্রটির শেষ কয়েকদিনের ফোন রেকর্ড এবং তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে।
মেধাবী এই ছাত্রের অকাল প্রয়াণে তাঁর পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার পর হস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কোনও উপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সহায়তা ও পরামর্শ
মানসিক অবসাদ বা আত্মহত্যার চিন্তা কখনওই কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে একা রাখবেন না। সাহায্যের জন্য নিকটস্থ ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
পশ্চিমবঙ্গের হেল্পলাইন নম্বর:
- লাইফলাইন ফাউন্ডেশন (Lifeline Foundation): ০৩৩-২৪৬৩৭৪০১ / ২৪৬৩৭৪৩২ (সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা)।
মনে রাখবেন, জীবন অমূল্য। লড়াই করার মানসিকতাই পারে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখাতে।

