ভোটকেন্দ্রে নাটকীয় পরিস্থিতি: স্ত্রীকে ভোট দেওয়া থেকে আটকাতে বুথের বাইরে ৫ ঘণ্টা ওত পেতে স্বামী!

ভোটকেন্দ্রে নাটকীয় পরিস্থিতি: স্ত্রীকে ভোট দেওয়া থেকে আটকাতে বুথের বাইরে ৫ ঘণ্টা ওত পেতে স্বামী!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তারাবাড়ির একটি বুথে ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। স্ত্রীকে ভোট দেওয়া থেকে আটকাতে বুথের বাইরে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ওত পেতে বসে থাকার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ওই মহিলা নির্বিঘ্নে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ঘটনার বিবরণ: বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির ২৫/২৩৮ নম্বর তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ চত্বরে সকাল থেকেই এক ব্যক্তিকে অদ্ভুতভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও তিনি বুথের বাইরে থেকে নড়েননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে কেবল বুথের দিকে নজর রাখছিলেন।

দুপুর ২টা নাগাদ ভোটার কার্ড ও স্লিপ নিয়ে ওই মহিলা ভোট দিতে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ভোটার কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন।

কেন এই কাণ্ড? তদন্তে জানা যায়, আটক ব্যক্তি ও ওই মহিলা স্বামী-স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে ওই মহিলা তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছাড়েন। স্বামীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় এখনও স্বামী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে, যা তিনি মুছে ফেলতে চান। তাঁর দাবি ছিল, ভোটার কার্ড থেকে নাম না মোছা পর্যন্ত ওই মহিলাকে যেন ভোট দিতে দেওয়া না হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী এ ধরনের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায়, নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর দাবি খারিজ করে দেন। পরে ওই মহিলা তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচন আধিকারিকদের প্রতিক্রিয়া: বুথ ছাড়ার সময় ওই ব্যক্তি নিরাপত্তারক্ষীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা আগে শোনেননি বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত এক নির্বাচন আধিকারিক। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নির্বাচনী ডিউটি করছি, কিন্তু এমন ঘটনা আমার জীবনে প্রথম।”

এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর বুথ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার পরেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.