বীরভূমের লাভপুরে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টকে বেধড়ক মারধর, অপহৃত প্রার্থীর ছেলে

বীরভূমের লাভপুরে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টকে বেধড়ক মারধর, অপহৃত প্রার্থীর ছেলে

বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নির্বাচনী পরিবেশ। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে এবং বিজেপি প্রার্থীর ছেলে দিব্যরূপ ওঝাকে অপহরণ করেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে সিউড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন লাভপুর বিধানসভার ভ্রমরকোল গ্রামের ৬৮ নম্বর বুথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ ওঠে। এই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন ২০২১ সালের বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল, প্রার্থীর ছেলে দিব্যরূপ ওঝা এবং আরও এক বিজেপি কর্মী। বুথ থেকে বেরিয়ে তাঁরা যখন গাড়িতে করে অন্যত্র যাচ্ছিলেন, তখন বুথের ১০০ মিটারের মধ্যেই তাঁদের ঘিরে ফেলে ১৫০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল।

অভিযোগ, গাড়ি ভাঙচুর করে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। বিশ্বজিৎ মণ্ডলের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। এরপর দুষ্কৃতীরা প্রার্থীর ছেলে দিব্যরূপ ওঝা এবং অপর এক কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীকালে তাঁরা কোনোক্রমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে।

বিজেপির অভিযোগ: এই আক্রমণের নিন্দা করে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি তথা সিউড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সাঁইথিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে সাসপেনশনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, কীর্ণাহারের কাজিপাড়া গ্রামে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর দেহরক্ষী, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

বিজেপির লাভপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের দাবি, “তৃণমূল পায়ের তলার মাটি হারিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতৃত্ব ও নির্বাচনী এজেন্টদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।”

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.