ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা সাইনা নেহওয়াল দীর্ঘ দিন ধরে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভোগার কথা প্রকাশ্যে আনার পর পেশাদার অ্যাথলেটদের স্বাস্থ্য ও বাতের ব্যথা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাডমিন্টনের মতো উচ্চমাত্রার খেলায় বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর অনুশীলন, কোর্টে অবিরাম দৌড়ঝাঁপ এবং দ্রুত দিক পরিবর্তনের কারণে খেলোয়াড়দের শরীরে হাড়ের ক্ষয় ত্বরান্বিত হয় বলে সাইনা জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত অতিরিক্ত চাপের ফলে শরীরের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টগুলোতে ক্ষয় ধরে, যার পরিণতি কম বয়সেই তীব্র বাতের ব্যথা।
কেন দ্রুত ক্ষয় হয় হাড় ও অস্থিসন্ধি?
শরীরের দুটি হাড়ের সংযোগস্থলে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির একটি নরম ও স্থিতিস্থাপক আস্তরণ থাকে, যা কুশনের মতো কাজ করে হাড়ের পারস্পরিক ঘর্ষণ রোধ করে। চিকিৎসকদের মতে:
- ক্রমাগত আঘাত ও চাপ: ব্যাডমিন্টনের মতো দ্রুতগতির খেলায় একটানা লাফানো ও দিক বদলের ফলে হাঁটু এবং গোড়ালির সন্ধিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বহু গুণ বেশি চাপ পড়ে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্টিলেজ ক্ষয়ে যেতে থাকে।
- পুরাতন আঘাতের প্রভাব: অ্যাথলেটদের জীবনে লিগামেন্ট ছেঁড়া, হাড়ে চিড় ধরা বা আঘাত পাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। পরবর্তীতে এসব ক্ষতের স্থানে বারবার চাপ পড়ায় প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বাড়ে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রূপ নেয়।
মহিলাদের ঝুঁকি কেন বেশি?
অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত গড়াই জানান, হাঁটু শরীরের বৃহত্তম ‘হিঞ্জ জয়েন্ট’ (কব্জা বিশিষ্ট সন্ধি)। জানলা-দরজার কব্জায় সমস্যা হলে যেমন তা অকেজো হয়, হাঁটুর ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এর প্রধান কারণসমূহ:
- হরমোনজনিত প্রভাব: নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করার কারণে হাড়ের ক্যালসিয়াম কমে যায়, যা তরুণাস্থিকে দুর্বল করে তোলে।
- হাঁটুর শারীরিক গঠন: মহিলাদের হাঁটুর গঠন তুলনামূলক ছোট। হাঁটু ভাঁজ করা বা মুড়ে বসার সময় যে ‘বেন্ডিং মোমেন্ট’ বা চাপ তৈরি হয়, তা সরাসরি মালাইচাকির (প্যাটেলার) নিচের কার্টিলেজে প্রভাব ফেলে।
- পেশাগত চাপ: যাঁদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা হাঁটু মুড়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়।
প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়
পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জিমে শরীরচর্চা ও ফিটনেস ট্রেনিং করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সঠিক ব্যায়াম, পেশাদার ফিজিওথেরাপি এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আর্থ্রাইটিসের জটিলতা থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।
