নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের অভিযোগ: সোমবার প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিও ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে (ভিডিওটির সত্যতা আনন্দবাজার ডট কম যাচাই করেনি)। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে অজয়পাল শর্মাকে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলতে দেখা যায়। তৃণমূলের দাবি, ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে হানা দিচ্ছেন এবং তল্লাশির নামে মহিলাদের সঙ্গে ‘অশ্লীল’ আচরণ করছেন।
পাশাপাশি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অজয়পাল শর্মার অতীতের কর্মজীবন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শাসকদলের দাবি, উত্তরপ্রদেশের এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বা ‘সিংহম’ খ্যাত পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রতারণার মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলার নজির রয়েছে। তৃণমূল স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে তারা।
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা: নিয়ম কী বলে? নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের অগস্টে প্রকাশিত ‘অবজ়ার্ভার হ্যান্ডবুক’ অনুযায়ী, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মূল কাজ হলো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের ‘চোখ এবং কান’ হিসেবে কাজ করা। হ্যান্ডবুকের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- নিরপেক্ষ তদারকি: পর্যবেক্ষকরা কমিশনের মুখপাত্র নন, তাঁরা সরাসরি তৃণমূল স্তরের তথ্য কমিশনকে জানাবেন।
- হস্তক্ষেপের সীমাবদ্ধতা: তাঁদের কাজ শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করা এবং রিপোর্ট দেওয়া। তাঁরা কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
- জনসংযোগ: হ্যান্ডবুকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, পর্যবেক্ষকরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। তাঁদের তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং শুধুমাত্র কমিশনের ব্যবহারের জন্য।
- উদ্দেশ্য: পর্যবেক্ষক নিয়োগের লক্ষ্য কোনো প্রশাসনিক খুঁত ধরা নয়, বরং অবাধ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহায়তা করা।
প্রাক্তন একাধিক আইপিএস অফিসারও মনে করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে হুমকি বা হুঁশিয়ারির সুরে কথা বলা পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাজের পরিধির বাইরে এবং তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তাঁদের মতে, পর্যবেক্ষক হিসেবে একজন পুলিশ কর্তার একমাত্র কাজ ইসিআই-কে (Election Commission of India) গোপন রিপোর্ট পাঠানো।
কমিশনের প্রতিক্রিয়া: পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে এবং আইন অনুযায়ীই কাজ হবে। তিনি বলেন, “ওই অফিসারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানো হলে কমিশন অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে।”

