রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার নয়া মোড়। এই খুনের নেপথ্যে জেলবন্দি কোনো পেশাদার অপরাধী বা ‘সুপারি কিলার’ চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিনরাজ্যের সংশোধনাগারে বন্দি থাকা দাগি অপরাধীদের গতিবিধির ওপরও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার নীল নকশা কোনো জেল থেকেই তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, যে পেশাদার কায়দায় ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি আটকে খুনের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তাতে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের চেয়ে বড় কোনো অপরাধচক্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি।
পেশাদার খুনি তত্ত্ব কেন জোরালো?
তদন্তকারী দল বা ‘সিট’-এর আধিকারিকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ধাপ সুপরিকল্পিত। জনবহুল রাস্তায় গাড়ি ঘিরে ফেলে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নির্ভুল নিশানায় গুলি চালানো এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেওয়া— এই বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণত পেশাদার সুপারি কিলারদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটেই পুলিশ এখন জেলবন্দি পেশাদার খুনিদের সাম্প্রতিক রেকর্ড এবং তাদের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগের সূত্রগুলো খতিয়ে দেখছে।
খুনের নেপথ্যে দেড় মাসের ছক?
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, চন্দ্রনাথকে সরাতে অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই ছক কষা হয়েছিল। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের আবাসনের সামনে যখন তিনি আক্রান্ত হন, তখন দুষ্কৃতীরা তাঁর সঠিক অবস্থান জানত। বাইক আরোহী ঘাতকদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান চন্দ্রনাথ। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর গাড়িচালকও।
তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন:
- গত দেড় মাসে চন্দ্রনাথের সঙ্গে কারও বড় কোনো বিবাদ হয়েছিল কি না।
- খুনিদের কাছে তাঁর গতিবিধির নিখুঁত তথ্য কারা সরবরাহ করেছিল।
- এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সংঘাত তৈরি হয়েছিল কি না।
তদন্তে সাত সদস্যের ‘সিট’ (SIT)
এই হাই-প্রোফাইল খুনের রহস্যভেদে বৃহস্পতিবারই রাজ্য পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করেছে।
- নেতৃত্ব: সিআইডির (CID) ডিআইজি পদমর্যাদার একজন আধিকারিক এই দলের প্রধান।
- সদস্য: সাত সদস্যের এই দলে বারাসত পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি এসটিএফ (STF) এবং সিআইডির অভিজ্ঞ গোয়েন্দাদের রাখা হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত গাড়ি ও বাইক
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি চারচাকা গাড়ি এবং দুটি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ, এগুলোই খুনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়কের এই মৃত্যু রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পেশাদার খুনিদের ‘ঠিকুজি-কোষ্ঠী’ বিচার করে এখন মূল চক্রান্তকারীর নাগাল পেতে মরিয়া রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।

