বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের পারদ চড়াতে ফের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার বাঁকুড়ায় বিজেপি প্রার্থী নিলাদ্রীশেখর দানার সমর্থনে এক বিশাল রোড শো-তে অংশ নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’-কে কটাক্ষ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, এবার বাংলায় সেই খেলার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
প্রচারের কেন্দ্রে ‘বুলডোজ়ার’
এদিন বাঁকুড়া শহরের লালবাজার মোড় থেকে মাচানতলা পর্যন্ত আয়োজিত রোড শো-তে দেখা গেল এক অভিনব দৃশ্য। হুড খোলা গাড়িতে প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। তবে প্রচারের মূল আকর্ষণে ছিল বিজেপির মিছিলে থাকা একটি সুসজ্জিত বুলডোজ়ার। ফুল, দলীয় পতাকা ও ফ্লেক্স দিয়ে সাজানো সেই বুলডোজ়ারে ছিলেন দলের মহিলা কর্মীরা। উত্তরপ্রদেশে তাঁর প্রশাসনিক কঠোরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বুলডোজ়ারকেই এদিন প্রচারের অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরল বিজেপি।
তৃণমূলের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি
রোড শো শেষে মাচানতলায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তৃণমূলের উদ্দেশ্যে আদিত্যনাথ বলেন, ‘‘৪ মে বাংলায় তৃণমূলের জন্য অন্ধকারের মেঘ নেমে আসবে এবং বিজেপির সূর্যোদয় হবে। এবার বাংলায় তৃণমূলের খেলা শেষ, উন্নয়নের শুরু।’’
তৃণমূল কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা বা হুমকি দিলে ৪ মে ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কর্মীদের জল দেওয়ার মতোও কাউকে পাশে পাওয়া যাবে না।’’
মাথাভাঙার জনসভায় তীব্র আক্রমণ
বাঁকুড়ার আগে মাথাভাঙার জনসভাতেও রাজ্যের শাসকদল ও জোট শরিকদের তোপ দাগেন যোগী। তাঁর ভাষণে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু:
- মহিলা সুরক্ষা ও সংরক্ষণ: মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতার জন্য বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, এই দলগুলি মহিলাদের অধিকার দিতে অস্বীকার করেছে।
- অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় বাধা: তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং রাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
- শিল্প ও কর্মসংস্থান: তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বাংলায় প্রায় সাত হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং ৩০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে রামমন্দির নির্মাণের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কেউ উন্নয়ন আটকাতে পারেনি, যা বাংলায় সম্ভব হয়নি।
বিজেপির এই রোড শো-কে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া শহরে ছিল ব্যাপক জনসমাগম। প্রখর গরম উপেক্ষা করেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদিত্যনাথের এই সফর ও তাঁর আক্রমণাত্মক বাচনভঙ্গি নির্বাচনে বিজেপি কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং মেরুকরণের রাজনীতির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

