২০২৬-এর লক্ষ্যে বিজেপির রণকৌশল: ‘যোগদান মেলা’ নয়, বাংলায় এবার হাই-প্রোফাইল ‘নেতার মেলা’

২০২৬-এর লক্ষ্যে বিজেপির রণকৌশল: ‘যোগদান মেলা’ নয়, বাংলায় এবার হাই-প্রোফাইল ‘নেতার মেলা’

পাঁচ বছর আগে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য দেখেছিল দলবদলের ‘যোগদান মেলা’। তবে ২০২৬-এর মহারণের আগে সেই পথে না হেঁটে এক ভিন্ন রণকৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। আগামী ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই কার্যত চাঁদের হাট বসতে চলেছে বাংলায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী— ৪৮ ঘণ্টার এই ‘নেতার মেলা’য় শামিল হতে চলেছেন বিজেপির একঝাঁক হেভিওয়েট মুখ।


কর্মসূচির রূপরেখা: ৯টি সাংগঠনিক বিভাগে যাত্রা

বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি ছাড়া রাজ্যের বাকি ৯টি সাংগঠনিক বিভাগে এই পরিবর্তন যাত্রা আয়োজিত হবে।

  • ১ মার্চ: কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা এবং রায়দিঘি— এই পাঁচ জায়গা থেকে যাত্রার সূচনা হবে।
  • ২ মার্চ: ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতা থেকে শুরু হবে বাকি চারটি যাত্রা।

শাহি সফর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি

তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকেই ১ মার্চ যাত্রার উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। তাঁর সফরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রায়দিঘিতে ‘চার্জশিট’ পেশ কর্মসূচি সেরে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি: | তারিখ | স্থান | উদ্বোধক (কেন্দ্রীয় নেতা) | | :— | :— | :— | | ১ মার্চ | কৃষ্ণনগর (নদিয়া) | জেপি নড্ডা (কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী) | | ১ মার্চ | কোচবিহার | নিতিন নবীন (বিজেপি সভাপতি) | | ১ মার্চ | গড়বেতা | ধর্মেন্দ্র প্রধান (কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী) | | ১ মার্চ | কুলটি | অন্নপূর্ণা দেবী (কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী) | | ২ মার্চ | আমতা (হাওড়া) | রাজনাথ সিংহ (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) | | ২ মার্চ | হাসন (বীরভূম) | দেবেন্দ্র ফডণবীস (মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী) | | ২ মার্চ | সন্দেশখালি | শিবরাজ সিংহ চৌহান (কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী) | | ২ মার্চ | ইসলামপুর | নিতিন নবীন |


কৌশলী বদল ও প্রস্তুতি

বিজেপি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তালিকায় কিছু রদবদল করা হয়েছে। নিতিন গড়কড়ীর পরিবর্তে আসছেন শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং স্মৃতি ইরানির জায়গায় আসছেন অন্নপূর্ণা দেবী। অন্নপূর্ণা দেবীকে আনার অন্যতম কারণ তাঁর সাবলীল বাংলা বলার দক্ষতা।

ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কাকে থাকতে হবে। সোমবারই রাজ্যজুড়ে জেলাগুলিতে ‘চার্জশিট’ পেশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, মিঠুন চক্রবর্তী, অগ্নিমিত্রা পাল এবং অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো নেতারা।

অতীত থেকে শিক্ষা?

২০২১ সালে তৃণমূল বা বাম-কংগ্রেস থেকে নেতাকর্মীদের বিজেপিতে টানার যে হিড়িক দেখা গিয়েছিল, ভোটের ফলে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি বলেই মনে করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই এবার সংগঠনের ভিত মজবুত করতে এবং জনমানসে প্রভাব ফেলতে সরাসরি কেন্দ্রীয় হেভিওয়েটদের ময়দানে নামিয়ে এক নজিরবিহীন ‘নেতার মেলা’র সাক্ষী করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.