বিহারের সমস্ত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার থেকে প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে এবং শেষ করতে হবে রাজ্যের নিজস্ব সংগীত ‘মেরে ভারত কে কণ্ঠ হার’ দিয়ে। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে গত ২৬ এপ্রিল এই মর্মে একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকার মূল বিষয়বস্তু: বিহার সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের পাঠানো ওই চিঠিতে অনুষ্ঠান পরিচালনার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- অনুষ্ঠানের ক্রম: অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজাতে হবে ‘জাতীয় অ্যান্থেম’ বা জাতীয় সংগীত (জনগণমন), এবং তার ঠিক পরেই পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’।
- সমাপনী সংগীত: প্রতিটি অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশন করতে হবে বিহারের রাজ্য সংগীত ‘মেরে ভারত কে কণ্ঠ হার’।
- উদ্দেশ্য: সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ, স্বকীয়তা এবং গর্বের অনুভূতি জাগ্রত করা। পাশাপাশি, বিহারের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য রাজ্য সংগীতের ব্যবহারকে অপরিহার্য করা হয়েছে।
জাতীয় গান ও সংগীতের প্রেক্ষাপট:
- জাতীয় গান (বন্দে মাতরম): বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে গৃহীত এই গানটি সংস্কৃত ও বাংলায় রচিত। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের গণপরিষদ একে আনুষ্ঠানিক জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গানটি চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
- জাতীয় অ্যান্থেম (জনগণমন): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই সংগীতটিও ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি জাতীয় অ্যান্থেম হিসেবে গৃহীত হয়। এটি গাইতে সাধারণত ৫২ সেকেন্ড সময় লাগে এবং প্রথমবার ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গাওয়া হয়েছিল।
- বিহারের রাজ্য সংগীত: ‘মেরে ভারত কে কণ্ঠ হার’ গানটি ২০১২ সালের মার্চ মাসে বিহারের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের সময় প্রথম প্রবর্তন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান, বিদ্যালয় এবং প্রধান জনসমাবেশে জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক করেছিল। সেই পথ ধরেই এবার বিহার সরকার তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নিয়মকে আরও সুসংহত এবং রাজ্য সংগীতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন পরিকাঠামো তৈরি করল।

