লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ধারা বজায় রাখল নির্বাচন কমিশন। এবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার (সিপি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো মুরলীধরকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আইপিএস আধিকারিক ত্রিপুরারি অথর্ব। শনিবার সকাল ১১টার মধ্যেই তাঁকে নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
অপসারণ ও নতুন নিয়োগের প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুরলীধরকে বিধাননগরের সিপি পদে নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক পুলিশ আধিকারিককে বদলি করেছে কমিশন। যদিও এতদিন মুরলীধর নিজের পদেই বহাল ছিলেন। এর আগে তাঁকে তামিলনাড়ুতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েও পরে তা স্থগিত করেছিল কমিশন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্তই নেওয়া হলো।
অন্যদিকে, বিধাননগরের পূর্বতন সিপি মুকেশকে যুবভারতীর ঘটনার পর সরিয়ে মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়েছিল। তারপরই মুরলীধর এই পদের দায়িত্ব পান।
কমিশনের সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক সংঘাত
রাজ্যে একের পর এক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক অপসারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ‘সক্রিয়তা’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ না করেই এই গণ-বদলি করা হচ্ছে।
আইনি লড়াই ও আদালতের অবস্থান
এই বদলি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমে কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে দুই আদালতই কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে।
- কলকাতা হাই কোর্ট: আদালত জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশন এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেছে।
- সুপ্রিম কোর্ট: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে জানায়, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আদালত এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয়। তবে আইনি বৈধতার প্রশ্নটি ভবিষ্যতে বিচারের জন্য বিচারাধীন রাখা হয়েছে।
কমিশনের এই নতুন নির্দেশের ফলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিচালনার ভার এখন ত্রিপুরারি অথর্বর কাঁধে। ভোটের মুখে এমন গুরুত্বপূর্ণ রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।

