মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের জনজীবনে। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল দশা দক্ষিণ ভারতের পর্যটন ও আইটি হাব বেঙ্গালুরুর। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম একধাক্কায় ১১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় শহরের সব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে স্থানীয় হোটেল মালিক সংগঠন।
গ্যাসের অগ্নিমূল্য ও সংকটের চিত্র
কেন্দ্রীয় সরকার ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা এবং ১৪ কেজির ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬৩ টাকা বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, আদানি-টোটাল গ্রুপ শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হোটেল ব্যবসায়ীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিই প্রতিবাদের প্রধান কারণ। এছাড়া সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশন যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় সংঘটিত হয়, তবে তাতে তাদের পূর্ণ অধিকার আছে।”
হরমুজ প্রণালী ও সরবরাহ সংকট
ভারতের গ্যাস সংকটের মূলে রয়েছে ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ।
- নির্ভরশীলতা: ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি-র প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
- হরমুজ প্রণালী: আমদানিকৃত এলপিজি-র প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পারস্য উপসাগরের ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার ও সৌদি আরব থেকে আসা গ্যাসের মূল পথ এটি।
- উত্তেজনা: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
কালোবাজারি ও জনরোষ
দেশে গ্যাসের বড় ধরনের ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গ্যাস ডেলিভারি কর্মীদের মতে, যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ আগাম সিলিন্ডার মজুত করতে শুরু করেছেন। এই ‘প্যানিক বায়িং’-এর সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি শুরু করেছেন। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোথাও কোথাও একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং গ্যাস এজেন্সির সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন পড়ছে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুকিংয়ের নিয়মে বদল আনলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। বেঙ্গালুরুর হোটেল মালিকদের এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হাইটেক সিটির সাধারণ মানুষ ও আইটি কর্মীদের জীবনযাত্রা চরম ভোগান্তির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

