প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পঠানের জমি জবরদখল সংক্রান্ত মামলায় কঠোর অবস্থান নিল গুজরাত হাই কোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনো রকম সরকারি অনুমোদন বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই কীভাবে বডোদরা পুরসভার জমি দখল করেছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার?
হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি ডিএন রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানিতে কড়া পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করে জানায়, ‘‘এমনটা কোনোভাবেই করা যায় না।’’
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ আদালতের
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বডোদরা পুরসভার জমি এতদিন নিজের অধীনে রাখা এবং তা ব্যবহার করার জন্য আবেদনকারী ইউসুফ পঠানকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৫ জুন।
বিতর্কের সূত্রপাত ও জমির বিবরণ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বডোদরা পুরসভার মালিকানাধীন ৯৭৮ স্কোয়ার মিটার একটি জমি নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। পুরসভার অভিযোগ, ইউসুফ পঠান ওই জমির চারধারে প্রাচীর বা দেয়াল তুলে সেটিকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছিলেন।
জমির দখল সংক্রান্ত ঘটনাক্রম নিচে দেওয়া হলো:
- ২০১২ সালের প্রস্তাব: বডোদরা পুরসভা কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে ইউসুফ পঠানকে কোনো রকম নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই জমিটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে সময় প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৫৭,২৭০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- ২০১৪ সালে অনুমোদন বাতিল: ২০১৪ সালে গুজরাত সরকার পুরসভার এই প্রস্তাব বা অনুমোদন বাতিল করে দেয়। তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পওয়ার অভিযোগ করেন যে, পঠান বেআইনিভাবে জমিটি দখল করে রেখেছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও জমিটি দীর্ঘদিন প্রাক্তন ক্রিকেটারের ব্যবহারেই ছিল।
লোকসভা নির্বাচন ও পুরসভার আইনি নোটিস
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইউসুফ পঠান। কংগ্রেসের বিদায়ী সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন।
তিনি সাংসদ হওয়ার পরপরই বডোদরা পুরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর পুনরায় তাঁর বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের অভিযোগ তোলেন। এর প্রেক্ষিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষ পঠানকে নোটিস পাঠিয়ে অবিলম্বে জমিটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদালতের আগের অবস্থান: পুরসভার এই উচ্ছেদ নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তবে গত সেপ্টেম্বর মাসেই আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এবার নতুন শুনানিতে জমি ব্যবহারের জন্য তাঁকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মুখেও দাঁড় করাল আদালত।

