আয়াতোল্লা খামেনেইকে নিয়ে মন্তব্য, ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত! এ বার মন্দনা করিমি কাকে জবাব দিলেন?

আয়াতোল্লা খামেনেইকে নিয়ে মন্তব্য, ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত! এ বার মন্দনা করিমি কাকে জবাব দিলেন?

ইরানের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সাহসী মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন ‘বিগ বস’ খ্যাত ইরানি অভিনেত্রী মন্দনা করিমি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু থেকে শুরু করে আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সংঘাত— নানা বিষয়ে বরাবরই সরব ছিলেন তিনি। গত মাসে ভারত ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুবাইতে পাড়ি জমান এই অভিনেত্রী।

দুবাই যাওয়ার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছিলেন মন্দনা। আর এর পরেই নেটিজেনদের একাংশের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অনেকেরই অভিযোগ, নতুন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজ দেশের যুদ্ধবিগ্রহ ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব হয়ে গেছেন তিনি।

সমালোচকদের এই ট্রোলিং ও কটাক্ষের জবাবে সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন মন্দনা করিমি। সেখানে নিজের অবস্থান ও মানসিক লড়াইয়ের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রতিবাদের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে: মন্দনা

ভিডিও বার্তায় মন্দনা জানান, দেশের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কেরিয়ারে তাঁকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:

“অনেকেই আমাকে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চাইছেন, কেন আমি আর ইরান নিয়ে কথা বলছি না বা কীভাবে আমার জীবন এত দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গেল। কিন্তু মানুষ হয়তো বোঝে না, এই প্রতিবাদের জন্য আমাকে কত বড় মূল্য দিতে হয়েছে। আমি কাজ হারিয়েছি, বহু ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। নিজের দেশকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে যে মানসিক যন্ত্রণা ও অসহায়ত্ব তৈরি হয়েছিল, তা আমি নীরবে সহ্য করেছি।”

অভিনেত্রী মনে করিয়ে দেন, তাঁর পরিবার এখনও ইরানেই বসবাস করছে। তাই দেশের প্রতি তাঁর টান কখনো কমবার নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, “যখন প্রয়োজন ছিল, আমি কথা বলেছি এবং ভবিষ্যতেও বলব।”

“আমার খুশি থাকাকে ভুলে যাওয়া ভাববেন না”

সমাজমাধ্যমের পোস্ট দেখে কাউকে বিচার না করার অনুরোধ জানিয়ে মন্দনা বলেন, লড়াইয়ের ধরন সবসময় এক রকম হয় না। তাঁর কথায়, “কখনও লড়াই মানে কথা বলা, কখনও লড়াই মানে টিকে থাকা, আবার কখনও লড়াই মানে নিজেকে সুস্থ করে তোলা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যদি আমার ভালো সময়ের কোনো মুহূর্ত পোস্ট করি, তার মানে এই নয় যে আমি ইরানকে ভুলে গিয়েছি। বরং এর মানে হলো, এত কিছুর পরেও আমাকে ভেঙে ফেলা যায়নি। আমি কাজ করতে করতে এবং হাসতে হাসতে এগিয়ে যাচ্ছি।”

নিজের বক্তব্যের শেষে সমালোচকদের উদ্দেশে এই ইরানি তারকা বলেন, ইরানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনোই সমাজমাধ্যমের সস্তা ‘কনটেন্ট’ বা প্রচারের মাধ্যম ছিল না। প্রবল আতঙ্ক ও মানসিক বিপর্যয়ের পর তিনি কেবল নিজের জীবনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন, যাকে কোনোভাবেই দেশের প্রতি উদাসীনতা হিসেবে গণ্য করা ভুল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.