দুই বাংলার সাংস্কৃতিক যোগসূত্র ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে বাছা হয়েছে। বর্তমান হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা বেলজিয়ামে বদলি হতে পারেন, এবং তাঁর স্থলেই দায়িত্ব নিতে চলেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।
কেন দীনেশ ত্রিবেদী?
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূস সরকারের সূচনালগ্ন থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসায় ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রেক্ষিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক ও মসৃণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে মনে করছে কেন্দ্র।
- সাংস্কৃতিক নৈকট্য: প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ঝরঝরে বাংলা বলেন এবং দুই বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সঙ্গীতের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। দক্ষ সেতারবাদক দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ দুই দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিচিতি ও কর্মজীবন
১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণকারী দীনেশ ত্রিবেদী সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক সফর বেশ ঘটনাবহুল:
- তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর সঙ্গী: ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় তিনি মমতার দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী: ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে জয়ী হয়ে তিনি মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন।
- বিজেপিতে যোগদান: ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি এবং বর্তমানে তিনি বিজেপিরই নেতা।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দীনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ‘পুরস্কার’ দেওয়ার যে বার্তা বিজেপি নেতৃত্ব দিতে চাইছে, দীনেশ ত্রিবেদীর এই কূটনৈতিক দায়িত্ব তার অন্যতম উদাহরণ। এটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের নিরিখে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিজেপির পক্ষ থেকে বঙ্গ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার অপেক্ষা। সব ঠিকঠাক থাকলে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পরেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ঢাকা রওনা দেবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

