অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংসারে অশান্তি! ‘ওরা আমাদের কথাই শোনে না’, অ্যাশেজ় শুরুর আগে নিজের দেশের বোর্ডকে নিশানা স্টার্কের

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংসারে অশান্তি! ‘ওরা আমাদের কথাই শোনে না’, অ্যাশেজ় শুরুর আগে নিজের দেশের বোর্ডকে নিশানা স্টার্কের

শুক্রবার থেকে শুরু ‘অ্যাশেজ়’ সিরিজ়। এ বার খেলা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের দেশের বোর্ডকেই নিশানা করলেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক। একটি কারণ বোর্ডের উপর ক্ষুব্ধ তিনি।

সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচ পার্‌থে। এই মাঠে সিরিজ় শুরু হওয়ায় খুশি নন স্টার্ক। তিনি জানিয়েছেন, দলের সকলে চান, ব্রিসবেনে সিরিজ় শুরু হোক। কিন্তু বোর্ড অন্য সিদ্ধান্ত নেয়। স্টার্ক বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম ব্রিসবেনে সিরিজ় শুরু হোক। কিন্তু ওরা আমাদের কথাই শোনে না। সেই পার্‌থেই খেলা দেয়।”

পার্‌থে এখন নতুন স্টেডিয়ামে খেলা হয়। পুরনো ওয়াকা স্টেডিয়ামে আর খেলা হয় না। সেই স্টেডিয়ামকে মিস্‌ করেন স্টার্ক। তার অন্যতম কারণ, সেখানকার উইকেটের বাউন্স ও গতি। স্টার্ক বলেন, “ওয়াকায় কী সুন্দর হাওয়া দিত। বিকালের দিকে হাওয়ায় বোলারেরা সুবিধা পেত। এই মাঠে সেটা হয় না। পাশাপাশি পাঁচ রকমের পিচ আছে। কোন পিচ কেমন, তা খেলা শুরু না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যায় না।”

অনেক সময় সেই পিচ প্রতিপক্ষের সুবিধা করে দেয় বলেও মত স্টার্কের। যেমনটা হয়েছিল গত বছর ভারতের বিরুদ্ধে। অস্ট্রেলিয়া সফরে একমাত্র পার্‌থেই জিতেছিল ভারত। স্টার্ক বলেন, “গত বছর প্রথম দিন অনেক উইকেট পড়েছিল। তার আগের বছর আবার উইকেট পাটা ছিল। আমরা জানি না, এ বার পিচ কেমন থাকবে।”

স্টার্ক সংশয়ে থাকলেও পার্‌থের পিচ প্রস্তুতকারক ইসাক ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য জানিয়েছেন, কিছু ভেবেই পার্‌থকে প্রথম টেস্টের জন্য বেছেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। তিনি বলেন, “গত চার বছর ধরে সিরিজ়ের প্রথম টেস্ট হচ্ছে পার্‌থে। কিছু দেখেই এই মাঠ বাছা হয়েছে। এই পিচে ভারত সুবিধা পেয়েছিল বটে, কিন্তু অ্যাশেজ়-এর গুরুত্ব আলাদা। এই সিরিজ় আরও বড় লড়াই।” তাঁর মতে, এই মাঠ থেকে সিরিজ় শুরু হওয়ার একটা কারণ, পার্‌থ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত। ইংল্যান্ডের দল বিমানে চেপে এই পথেই অস্ট্রেলিয়ায় ঢোকে। ফলে এখান থেকেই সিরিজ়ের শুরু হওয়া উচিত।

তবে ১৯৮২-৮৩ সালের পর থেকে এই প্রথম বার অ্যাশেজ় শুরু হচ্ছে পার্‌থে। ২১ নভেম্বর থেকে শুরু সেই খেলা। স্টার্ক যে ব্রিসবেনে প্রথম টেস্ট চেয়েছিলেন সেখানে হবে দ্বিতীয় টেস্ট। সেটি আবার দিন-রাতের টেস্ট। ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু সেই খেলা। ১৭ ডিসেম্বর থেকে অ্যাডিলেডে শুরু তৃতীয় টেস্ট। ২৬ ডিসেম্বর থেকে মেলবোর্নে শুরু চতুর্থ টেস্ট, যা ‘বক্সিং ডে’ টেস্ট নামে পরিচিত। ৪ জানুয়ারি থেকে সিডনিতে শুরু পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট। শেষ ১৫ বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে এ বারও কঠিন চ্যালেঞ্জ বেন স্টোকসদের সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.