রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পুলিশি প্রশাসনে ফের কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। নৈহাটি ও বেলডাঙার পর এবার বাগুইআটি ও নরেন্দ্রপুর থানার আইসি (ইন্সপেক্টর ইন চার্জ)-কে বদলি করা হলো। কমিশনের এই তড়িৎ সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বাগুইআটিতে গুরুতর অভিযোগ
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ বাগুইআটি থানার আইসি অমিত কুমার মিত্রের বিরুদ্ধে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সভার সামগ্রী পরিবহনের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাগুইআটি থানার পুলিশি গাড়িতে করেই রাজনৈতিক সভার জন্য ত্রিপল ও চেয়ার নিয়ে আসা হচ্ছিল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর এই অভিযোগটিকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার পরেই আইসি-কে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
রদবদলের খতিয়ান
রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দুই আইসি-কে সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে দূরে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
- বাগুইআটি: আইসি অমিত কুমার মিত্রকে হাওড়া গ্রামীণ জেলার মোবাইল পুলিশ বিট (MPB)-তে পাঠানো হয়েছে।
- নরেন্দ্রপুর: বারুইপুর পুলিশ জেলার নরেন্দ্রপুর থানার আইসি সুরেন্দ্র কুমার সিংহকে হাওড়া রেল পুলিশে (GRP) বদলি করা হয়েছে।
ধারাবাহিক পদক্ষেপ
নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই পক্ষপাতহীন ভোট নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থানে রয়েছে কমিশন। এর আগে:
- গত মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার আইসি-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
- তারও আগে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে আগামী দিনে আরও প্রশাসনিক রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল।

