শিক্ষক দিবসের খাওয়া দাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে প্রধানশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চার ছাত্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে তাদের স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার (টিসি) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
গত মঙ্গলবার শিক্ষক দিবসের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের দশম শ্রেণির একদল ছাত্রের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই আয়োজনে তাদের হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। শিক্ষকদের কাছে প্রতিকার না পেয়ে ছাত্ররা প্রধানশিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের কাছে গেলে উত্তেজনা চমে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদের এলোপাথাড়ি মারধরে প্রধানশিক্ষকের কপাল ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার স্কুল চত্বরে চরম রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় নবান্ন নড়েচড়ে বসে এবং বুধবার সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বা ডিআই-এর প্রাথমিক তদন্তের উল্লেখ করে প্রধানশিক্ষক ও পড়ুয়া— উভয় পক্ষের আচরণকেই দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি, শুক্রবারই জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পৌঁছে প্রথমে প্রধানশিক্ষকের কক্ষে জেলাশাসক এবং দুই স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মন্ত্রী। এরপর তিনি অভিভাবকদের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। পরবর্তীতে শহরের কুড়িটি স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের নিয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসেন তিনি, যেখানে স্কুলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দেন, প্রধানশিক্ষককে নিগ্রহের ঘটনায় সরাসরি জড়িত চার ছাত্রকে এক দিনের মধ্যে শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের আর ওই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ঘটনায় কোনো বহিরাগত যুক্ত থাকলে তাদেরও চিহ্নিত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

