শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে চলেছে মোট ছ’টি দেশ। তিনটি মহাদেশ জুড়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, পর্তুগাল, স্পেন এবং মরক্কোয়। তবে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে স্পেন এবং মরক্কোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের শতবর্ষ স্মরণে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজিত হবে। অন্যদিকে, মূল টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে থাকছে ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। যৌথভাবে আয়োজনের প্রস্তুতিতে দুই দেশ হাত মিলিয়ে কাজ করলেও, মর্যাদাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্পেন ও মরক্কো উভয়েই। এই জটিল পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের এক মুখপাত্র স্পেনের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং উপযুক্ত সময়ে ফিফার পক্ষ থেকে সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
আফ্রিকা মহাদেশের জোরালো দাবি পেশ করে মরক্কো জানিয়েছে যে, ২০১০ সালের পর থেকে আফ্রিকায় কোনো বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়নি। এরপর বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও আফ্রিকা বঞ্চিত রয়েছে। ফিফার ঘূর্ণায়মান আবর্তনের নীতি মেনে তাই ফাইনালের দায়িত্ব আফ্রিকারই পাওয়া উচিত। মরক্কো ফুটবল সংস্থার সভাপতি ফৌজ়ি লাকজা সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সমাবেশে আত্মবিশ্বাসের সুরে ঘোষণা করেছেন যে, বেন্সলিমানে শহরের হাসান ২ স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে এবং তাঁর আশা ফাইনালে মরক্কোর জাতীয় দলও মাঠে নামবে।
অন্যদিকে, ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে নিজেদের শক্ত দাবি পেশ করে স্পেন যুক্তি দিয়েছে যে, ফুটবল শক্তি, বিশ্বমঞ্চে সাফল্য এবং উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামোর নিরিখে তারা বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের নৈতিক ও বাস্তবিক অধিকার তাদেরই রয়েছে বলে দাবি স্পেনের ফুটবল কর্তাদের। মরক্কো প্রধানের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পেনের ফুটবল সংস্থার প্রধান রাফায়েল লুজ়ান বলেন, ফাইনাল কোথায় হবে তা এখনও পরিষ্কার না করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে পুরুষ ও মহিলা— উভয় বিভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে স্পেনকেই ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

