উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরের অগ্রদূত ময়দানে বুধবার এক জনসভায় যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি কলকাতার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ডাক দিলেন।
অনুপ্রবেশ ও উন্নয়ন নিয়ে তোপ: কলকাতা শহরকে ‘বস্তির শহর’ হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত করতে ব্যস্ত। শাহ বলেন, “দেশের অন্যান্য শহর যখন বস্তিমুক্ত হচ্ছে, তখন দিদি এখানে বস্তি এবং অনুপ্রবেশকারীদের লালন করছেন।” এছাড়া তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান পুরসভা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে, যার ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং যত্রতত্র নোংরা জলের ঝিল তৈরি হয়েছে।
শিল্প ও নারী নিরাপত্তা: শিল্পায়নের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬০০০ প্রতিষ্ঠান বাইরে চলে গেছে। রাজ্যের শিল্পবিমুখতার জন্য তিনি তৃণমূলের ‘কাটমানি’ সংস্কৃতিকে দায়ী করেন। একইসঙ্গে নারী নিরাপত্তার ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি মহিলাদের রাত ৭টার পর বাইরে বেরোনো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। শাহ আশ্বাস দেন, ৫ মে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মহিলারা পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন এবং গুন্ডারা তাঁদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।
গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি: আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে:
- মেট্রো সম্প্রসারণ: ক্ষমতায় এলে কলকাতা মেট্রোর কাজ তিন গুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং দমদম ও হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় তা বিস্তৃত করা হবে।
- অভিন্ন দেওয়ানি বিধি: শাহ ঘোষণা করেন, বিজেপি সরকার রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করবে, যার মাধ্যমে বহুবিবাহ ও তিন তালাক বন্ধ করা হবে।
- নারী সংরক্ষণ: সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করে শাহ দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই বিলের বিরোধিতা করছেন।
রামমন্দির ও সন্ত্রাসবাদ: অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের কৃতিত্ব মোদী সরকারকে দিয়ে শাহ বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ৫০০ বছর ধরে যে মন্দির নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি, নরেন্দ্র মোদী তা বাস্তবায়িত করেছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের আমলে সন্ত্রাসবাদীদের ‘বিরিয়ানি’ খাওয়ানো হতো, কিন্তু মোদী সরকার ৩৭০ ধারা বিলোপ করে সন্ত্রাসবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। মল্লিকার্জুন খড়্গের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর প্রভাবেই কংগ্রেসের ভাষাশৈলী ও মানসিকতার অবনতি হয়েছে।
আগামী দিনের হুঙ্কার: সন্দেশখালির ঘটনা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হয়ে শাহ তৃণমূলের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দেন। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন গুন্ডাদের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি জানিয়ে শাহ বলেন, “দিদি, টাটা, গুডবাই।”
বুধবার থেকে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে টানা প্রচার চালাবেন। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তাঁর এই সফর বিজেপির প্রচারকে যথেষ্ট গতিশীল করবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

