রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত হওয়া থেকে আটকাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য আবগারি দফতর। গত সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই এই সিদ্ধান্তে সাধারণ সুরাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও নির্দেশিকা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে রাজ্য প্রশাসন ও আবগারি দফতর এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় নজরদারি রিপোর্টে এপ্রিল মাসে মদের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মতো কোনো ঝুঁকি না নিতেই প্রশাসন এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে।
- বন্ধের সময়সীমা: আবগারি দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন মদের দোকান ও পানশালা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
- ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞা: একইভাবে ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন অর্থাৎ ৪ মে-ও দোকান বন্ধ থাকবে।
নির্বাচনী বিধিনিষেধ ও প্রশাসন
নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মদের দোকান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। তবে প্রথম দফার নির্বাচনের (২৩ এপ্রিল) প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন ঝুঁকি এড়াতে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করেছে। আবগারি কমিশনার সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের সংশয়
যে সমস্ত এলাকায় দ্বিতীয় দফায় (২৯ এপ্রিল) ভোট রয়েছে, সেখানেও কেন ২০ এপ্রিল থেকে দোকান বন্ধ রাখা হলো—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে প্রশাসনের কর্তাদের মতে, নিয়ম সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া ২৪ ও ২৫ এপ্রিল দোকান খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় সুরাপ্রেমীদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।
এখন প্রশাসনের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হয় এবং তার ফলে ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

