বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় থেকেও তিনি নিভৃতচারী। সচরাচর কোনো পার্টি বা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায় না। তবে পর্দার সামনে দাঁড়ালে আজও তিনি বড় বড় তারকাদের টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ‘রেহমান বালোচ’-এর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন অভিনেতা অক্ষয় খন্না। এবার সেই ছবির শুটিং সেটে অক্ষয়ের স্বভাব ও নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর সহ-অভিনেতা দানিশ প্যান্ডোর।
সেটে স্বল্পভাষী ও গভীর মনসংযোগী
অক্ষয় খন্না সম্পর্কে বলিউডে দীর্ঘদিনের ধারণা যে তিনি প্রচণ্ড অন্তর্মুখী এবং শুটিং সেটে খুব একটা কারোর সঙ্গে মেলামেশা করেন না। দানিশ প্যান্ডোর এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অক্ষয় কাউকে এড়িয়ে চলেন না, বরং নিজের চরিত্রের গভীরতা বজায় রাখতেই চুপচাপ থাকেন।
দানিশের বক্তব্যে উঠে আসা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- নিয়ন্ত্রিত কথা: অক্ষয় গায়ে পড়ে কারোর সঙ্গে কথা বলেন না। তবে কেউ যদি এগিয়ে গিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করেন, তবে তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তার উত্তর দেন।
- সহজ ব্যবহার: অন্তর্মুখী হলেও তিনি অত্যন্ত সহৃদয় ব্যক্তি। ইউনিটের অন্যদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার সবসময়ই মার্জিত থাকে।
- ফোন ব্যবহারের অনীহা: বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতারা যেখানে বিরতি পেলেই মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, সেখানে অক্ষয় সেটে ফোন ব্যবহারই করেন না। শুটিং চলাকালীন তিনি ফোন সঙ্গেও রাখেন না।
চরিত্র নির্মাণে মগ্ন অভিনেতা
দানিশ জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর সেটে অক্ষয়কে অধিকাংশ সময় এক কোণে একা বসে থাকতে দেখা যেত। তিনি মূলত নিজের পরবর্তী দৃশ্য বা অভিনয়ের ধরন নিয়ে ভাবতে থাকেন। ক্যামেরা চালু হওয়ার সাথে সাথে তিনি যেভাবে বাস্তবে ফিরে আসেন এবং অবলীলায় চরিত্রে মিশে যান, তা সহ-অভিনেতাদের কাছে বিস্ময়ের।
উল্লেখ্য, আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিতে দানিশ নিজেও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘উজ়ের বালোচ’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনিও প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু সিনিয়র অভিনেতা অক্ষয়ের এই কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং তথাকথিত ‘স্টারডম’ থেকে দূরে থাকার বিষয়টি তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রচার কিংবা লাইমলাইটের চেয়ে অভিনয়কেই যে অক্ষয় খন্না প্রাধান্য দেন, দানিশের এই বয়ান যেন আবারও সেই প্রমাণই দিল। পেশাদারিত্বের এই অনন্য নজির আজ বিনোদন জগতে বিরল।

