মানিকতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। ২০২২ সালে সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর তাঁর স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই আসনেই ৪২ বছর বয়সী শ্রেয়াকে প্রার্থী করেছে শাসক দল। নির্বাচনে মনোনয়নের সাথে পেশ করা হলফনামায় শ্রেয়া তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি, আয় এবং ঝুলে থাকা ফৌজদারি মামলার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।
গত পাঁচ বছরে আয়ের উর্ধ্বগতি
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শ্রেয়া পাণ্ডের বার্ষিক আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
- ২০২০-২১ অর্থবর্ষ: তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬১০ টাকা।
- ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ: তাঁর বার্ষিক আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৩৯ টাকায়।
বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ১২২ টাকা। এছাড়া অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট সম্পদশালী। তাঁর কাছে প্রায় ৫৮ ভরি সোনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান
শ্রেয়া পাণ্ডের দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা:
- অস্থাবর সম্পত্তি: ২ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩১৯ টাকা।
- স্থাবর সম্পত্তি: ৭ কোটি ৭৯ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।
- ঋণের পরিমাণ: ব্যাংক এবং আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে তাঁর মোট ঋণের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ২৫৯ টাকা।
সিবিআই মামলা ও অপরাধের রেকর্ড
তৃণমূল প্রার্থীর হলফনামায় একটি সিবিআই মামলার উল্লেখ রয়েছে। ২০১৪ সালে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত প্রতারণা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে ভুবনেশ্বর সিবিআই আদালতে বিচারাধীন। তবে শ্রেয়া হলফনামায় স্পষ্ট করেছেন যে, আদালত এই মামলায় তাঁকে এখনও দোষী সাব্যস্ত করেনি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে শ্রেয়া জানিয়েছেন, তিনি ২০০৩ সালে মডার্ন হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভবানীপুর গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটিতে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BBA) নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সেখানে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্তই তিনি পড়াশোনা করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
তৃণমূলের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সম্পত্তি ও আইনি রেকর্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, মানিকতলার ভোটাররা সাধন-কন্যার এই হলফনামাকে কীভাবে গ্রহণ করেন।

