জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত ৯ এপ্রিল রাতের ইডেনে কেকেআর বনাম লখনউ ম্যাচে শেষ হাসি হাসলেন অখ্যাত মুকুল চৌধুরী। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করল কেকেআরের বোলিং লাইন-আপ। লখনউয়ের এই জয়ের দিনে যেমন মুকুল চৌধুরীর লড়াই থাকল, তেমনই থাকল সুনীল নারাইনের ব্যক্তিগত এক মাইলফলক।
কেকেআরের ইনিংস: রাহানে-রঘুবংশীর শুরু, শেষে মন্থর ব্যাটিং
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কেকেআর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান সংগ্রহ করে। শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন অজিঙ্কা রাহানে এবং অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। রাহানে ৪১ রান (২৩ বল) এবং রঘুবংশী ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে রাহানে আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়।
ক্যামেরন গ্রিন এবং রভম্যান পাওয়েল ক্রিজে থাকলেও ডট বলের দাপটে ইডেনের দর্শকদের বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত পাওয়েল ৩৯ এবং গ্রিন ৩২ রানে অপরাজিত থাকলেও কেকেআরের স্কোর ১৮১ রানেই আটকে যায়। লখনউয়ের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন আবেশ খান ও মহম্মদ শামি।
লখনউয়ের রান তাড়া: নারাইনের ২০০তম উইকেট ও মিডল অর্ডারের পতন
১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউ নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে। বৈভব অরোরা দ্রুত ফিরিয়ে দেন এডেন মার্করাম (২২) ও মিচেল মার্শকে (১৫)। মাঝপথে ঋষভ পন্থ (১০) ও নিকোলাস পুরান (১৩) ব্যর্থ হলে চাপে পড়ে যায় লখনউ।
এই ইনিংসেই ইতিহাস গড়েন সুনীল নারাইন। মহম্মদ শামিকে আউট করে আইপিএলের প্রথম বিদেশি বোলার হিসেবে ২০০টি উইকেটের নজির গড়েন তিনি। অনুকূল রায়ও দুই উইকেট নিয়ে লখনউকে হারের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। ১২৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে লখনউ।
মুকুল চৌধুরীর রূপকথা
ম্যাচ যখন কেকেআরের পকেটে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে মুকুল চৌধুরীর। কোনো চাপকে পাত্তা না দিয়ে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। মাত্র ২৭ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে কেকেআরের মুখের গ্রাস কেড়ে নেন এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর এই লড়াকু ইনিংসই শেষ পর্যন্ত রাহানেদের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে লখনউকে এক স্মরণীয় জয় এনে দেয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- কেকেআর: ১৮১/৪ (২০ ওভার) – রঘুবংশী ৪৫, রাহানে ৪১, পাওয়েল ৩৯*; আবেশ খান ১/৩০।
- লখনউ: মুকুল চৌধুরী ৫৪* (২৭ বল), আয়ুষ বাদোনি ৫৪; অনুকূল রায় ২/২০, বৈভব অরোরা ২/১৫।
ফলাফল: মুকুল চৌধুরীর অর্ধশতরানে ভর করে ম্যাচ জিতল লখনউ।

