চলতি আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের অন্যতম বড় আবিষ্কার তিনি। মাস কয়েক আগেও যাঁর নাম বিশেষ পরিচিত ছিল না, আজ সেই ডানহাতি পেসার প্রিন্স যাদবই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটকে। স্বপ্ন দেখছেন নিজেও— ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের হাতে বিশ্বখেতাব তুলে দেওয়া।
বিশ্বকাপে বিরাটের সতীর্থ হওয়ার লক্ষ্য
সম্প্রতি লখনউ সুপার জায়ান্টসের একটি ভিডিওতে নিজের লক্ষ্যের কথা স্পষ্ট করেছেন প্রিন্স। তিনি বলেন, “বিরাট ভাই ও রোহিত ভাইয়ের সাথে ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তাঁদের বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে চাই। এটাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।” যদিও ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে এখনও তাঁর অভিষেক হয়নি, তবে আইপিএলের পারফরম্যান্স তাঁকে জাতীয় নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
পরিসংখ্যানের বিচারে সফলতম
এবারের আইপিএলে লখনউয়ের হয়ে বল হাতে চমক দিয়েছেন প্রিন্স। মহম্মদ শামি বা মহসিন খানের মতো বোলারদের টপকে দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক এখন তিনি।
- ম্যাচ: ৯টি
- উইকেট: ১৩টি
- বেগুনি টুপি তালিকায় অবস্থান: ৬ষ্ঠ
- ইকোনমি রেট: ৮.০৬ (প্রতি ওভারে)
গ্রামের মাঠে টেনিস বল থেকে আইপিএল: লড়াকু সফর
দিল্লির নজফগড়ের কাছে দরিয়াপুর খুর্দ গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন প্রিন্স। তাঁর ক্রিকেটার হওয়ার যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। রেল পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বাবা চাইতেন ছেলে পড়াশোনা করে চাকরি করুক। ক্রিকেটের জন্য বাবার কাছে শৈশবে মারও খেতে হয়েছে তাঁকে। একটি সাক্ষাৎকারে প্রিন্স জানান, “১৭ বছর বয়স পর্যন্ত স্রেফ টেনিস বলে বন্ধুদের সাথে আনন্দের জন্য খেলতাম। বাড়ির কেউ জানলে কপালে মার জুটত। এমনকি গতবার আইপিএল খেলে বাড়ি ফেরার পরেও বন্ধুদের সাথে গ্রামে চুটিয়ে টেনিস বল খেলেছি।”
টেনিস বলে খেলা কি পেশাদার ক্রিকেটে ক্ষতি করে? প্রিন্সের যুক্তি অন্যরকম, “টেনিস বলে জোরে বল করতে গেলে শরীরে অনেক চাপ পড়ে, যা আমার হাতের গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নিখুঁত ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতাও আমি টেনিস বল থেকেই আয়ত্ত করেছি।”
মাঠের লড়াই বনাম চাষের জমি
ক্রিকেট মাঠে যখন বল হাতে আগুনের গোলা ছোটাচ্ছেন না, তখন প্রিন্সকে পাওয়া যায় গ্রামের চাষের জমিতে। তাঁর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস চাষাবাদ। লখনউয়ের হয়ে আইপিএল খেলতে আসার আগে পর্যন্ত নিজের জমিতে গম চাষে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। প্রিন্সের কথায়, “মাঠের কাজ করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। বাড়িতে থাকলে এখনও জমিতে গিয়ে চাষ করি।”
বিসিসিআই-এর নজরে আগামীর পেসার
দিল্লির হয়ে ২০২৪ থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন প্রিন্স। তাঁর গতির বৈচিত্র্য নজর কেড়েছে বিসিসিআই-এর। বোর্ডের তৈরি করা ভবিষ্যতের সেরা পেসারদের বিশেষ তালিকায় রাখা হয়েছে তাঁর নাম। সাদা বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলে প্রবেশের দৌড়ে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকলেও, প্রিন্স তাঁর বর্তমান ফর্ম দিয়ে সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এখন দেখার, দরিয়াপুর খুর্দের এই তরুণ পেসার ২০২৭ বিশ্বকাপে কোহলি-রোহিতদের স্বপ্নপূরণের সারথি হতে পারেন কি না।

