টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে নিউজ়িল্যান্ড। হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ের আগে পাকিস্তান দলকে নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয় কিউয়ি শিবির। বরং গত দুই বছরে বাবর আজমদের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার করেই জয়ের ছক কষছেন মার্ক চ্যাপম্যানরা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কিউয়ি অলরাউন্ডার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানকে তাঁরা এখন হাতের তালুর মতো চেনেন।
অভিজ্ঞতাই প্রধান অস্ত্র
গত দুই বছরে এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২০টি ম্যাচ খেলেছে নিউজ়িল্যান্ড। এই পরিসংখ্যানই আত্মবিশ্বাসের মূল রসদ কিউয়ি শিবিরে। চ্যাপম্যানের মতে, ঘনঘন সাক্ষাতের ফলে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ সম্পর্কে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে।
স্পিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিককে নিয়ে ক্রিকেট মহলে চর্চা থাকলেও নিউজ়িল্যান্ড তাঁকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক হতে রাজি নয়। চ্যাপম্যান বলেন:
“উসমানের বোলিং অ্যাকশন বাকিদের থেকে আলাদা, বিশেষ করে ক্রিজ়ে হঠাৎ থেমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। তবে পাকিস্তানে আরও অনেক মানসম্মত স্পিনার রয়েছে। আমরা গত কয়েক বছরে ওদের বিরুদ্ধে প্রচুর ম্যাচ খেলেছি, তাই ওদের আক্রমণ সামলানোর কৌশল আমাদের জানা আছে। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ভারতের পিচ বনাম কলম্বোর মন্থর উইকেট
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের পিচে হলেও কলম্বোর উইকেট যে ভিন্ন চরিত্রের হবে, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন চ্যাপম্যান। ভারতের ব্যাটিং সহায়ক লাল মাটির পিচে রান তোলা সহজ হলেও শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে তাঁর ধারণা।
- ভারতের পিচ: লাল মাটির উইকেটে ২০০ বা তার কাছাকাছি রান তোলা সহজ ছিল, যা বোলারদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
- কলম্বোর পিচ: এখানকার উইকেট তুলনামূলক মন্থর। চ্যাপম্যানের মতে, এই পিচে ঘূর্ণি বা টার্ন দেখা যাবে, যা বোলারদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ করে দেবে।
সুপার এইটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে দুই দলের জন্যই এই জয় অত্যন্ত জরুরি। একদিকে পাকিস্তানের চেনা বোলিং আক্রমণ, অন্যদিকে কলম্বোর মন্থর পিচ— এই দুই সমীকরণ মিলিয়ে শনিবারের ম্যাচ এক টানটান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

