সিএবির বার্ষিক সভার নথি প্রেরণ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ময়দান থানায় এফআইআর দায়ের

সিএবির বার্ষিক সভার নথি প্রেরণ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ময়দান থানায় এফআইআর দায়ের

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত নথি পাঠানো নিয়ে বড়ো ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। সিএবির কয়েক জন কর্তা এবং একটি ক্যুরিয়র সংস্থার বিরুদ্ধে ময়দান থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সদস্য গৌতম দে। এই সংস্থার সিএবি নির্বাচনে ভোটাধিকার রয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় সংস্থার সচিব, যুগ্মসচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত ক্যুরিয়র রেকর্ডে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সিএবির পাঁচটি অনুমোদিত ক্লাবের নির্বাচনের কাগজপত্র তাদের নথিভুক্ত ঠিকানায় পাঠানো হয়নি। পরিবর্তে সেই নথিগুলি সিএবি পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ক্যুরিয়র সংস্থার মাধ্যমে এই পাঁচটি ক্লাবে নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে কনসাইনমেন্ট নম্বরের কোনো ‘ট্র্যাকিং হিস্ট্রি’ নেই বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পাঁচটি পৃথক বুকিং রসিদের পরিবর্তে একটিমাত্র রসিদ তৈরি করা হয়েছিল।

গৌতম দে অভিযোগ করে বলেন, ‘‘এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কনসাইনমেন্টগুলি ভুয়ো এবং ডেলিভারি রেকর্ডগুলি জাল। পরে কিছু নথি একই কনসাইনমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আবার পাঠানো হয়েছে।’’ ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ছাড়াও এই তালিকায় ওয়াইএমসিএ এবং ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব রয়েছে। এছাড়া স্টার স্পোর্টিং ক্লাব সরাসরি ক্যুরিয়র সংস্থার দফতরে গিয়ে নির্বাচনের নথি সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে যে ক্যুরিয়র সংস্থার নাম উঠে এসেছে সেটি হলো ডিটিডিসি (DTDC)। ঘটনাচক্রে, সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। গৌতমের দাবি, এজিএম-এ অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই সিএবি ও ওই ক্যুরিয়র সংস্থার কর্মীদের যৌথ ষড়যন্ত্রে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে নথি সঠিক ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেছে বলে দেখানো যায়। তিনি অবিলম্বে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে ক্যুরিয়র রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে শহরের বাইরে থাকায় সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সিএবির সচিব বাবলু কোলে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘‘আমাদের কাছে যে ঠিকানা নথিভুক্ত আছে, সেখানেই সবকিছু পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাছে তার প্রমাণও আছে। এ বার কোন ক্লাবের কে চিঠি রিসিভ করল, সেটা তো সিএবির পক্ষে জানা সম্ভব নয়।’’

ট্র্যাকিং হিস্ট্রি না থাকা এবং একটিমাত্র রসিদ তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে সচিব বলেন, ‘‘একটা চিঠি পাঠানোর পর সারাক্ষণ তা ট্র্যাক করা কি কারও পক্ষে সম্ভব? যিনি বলছেন, মনে হয় না ঠিক বলছেন। এরকম কিছু হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি তো ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের সচিব বা সভাপতি নন। তিনি কে? তিনি তো একজন সদস্যমাত্র।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.