বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক আসনে রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ভোটাররা। এই দফার নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি নজর রয়েছে বেশ কয়েকজন নতুন মুখের ওপর।
যেসব এলাকায় ভোট: প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহের পাশাপাশি ভোট হবে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়। এছাড়াও বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানের বেশ কিছু কেন্দ্রেও বৃহস্পতিবার জনমত গ্রহণ করা হবে।
নজরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও প্রার্থী: প্রথম দফার ভোটে বেশ কিছু কেন্দ্র এবং প্রার্থীর লড়াইয়ের দিকে রাজনৈতিক মহলের বাড়তি নজর রয়েছে:
- নন্দীগ্রাম: গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষায় নন্দীগ্রাম। আবারও মুখোমুখি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের তুরুপের তাস প্রাক্তন বিজেপি নেতা পবিত্র কর।
- বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ: কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরীর নিজের গড়ে লড়াইয়ের দিকে সকলের নজর রয়েছে। এছাড়া সাগরদিঘিতে তৃণমূলের বাইরন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিজ্ঞ মনোজ চক্রবর্তীর লড়াই এবং রেজিনগর ও ডোমকলে দুই ‘হুমায়ুন কবীর’-এর ভাগ্যপরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- খড়্গপুর সদর: ১০ বছর পর পুনরায় এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ।
- অন্যান্য হেভিওয়েট: রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ, মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, বিরবাহা হাঁসদা এবং মলয় ঘটকের মতো বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এছাড়া কোচবিহারে বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ এবারের ভোটের অন্যতম আকর্ষণ।
- দলবদল ও সমীকরণ: ডেবরা থেকে প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের ডোমকলে স্থানান্তর এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেবরায় প্রার্থী হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ভোটের সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে। এছাড়া রানিবাঁধ কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রম এবং বীরভূমে কাজল শেখের লড়াইয়ের ওপরও নজর রয়েছে।
পরিসংখ্যান: উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল ৯২টিতে এবং বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রুদেন সাদা লেপচা।
বৃহস্পতিবারের এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। প্রশাসনিক স্তরেও অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

