সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে আরও এক বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র প্রশ্ন প্রস্তুতকারক প্যানেলের অন্যতম সদস্য তথা পুণের শিক্ষিকা মনীষা সঞ্জয় হাভালদারকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে নিটের পদার্থবিদ্যার (Physics) প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ কমিটির মোট তিন জন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক সিবিআই-এর জালে জড়ালেন।
ভেতরের লোকই ‘মাস্টারমাইন্ড’: তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মনীষা সঞ্জয় হাভালদার পুণের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপিকা। এনটিএ তাঁকে নিটের পদার্থবিদ্যার প্রশ্নপত্র তৈরির বিশেষজ্ঞ প্যানেলে নিযুক্ত করেছিল। প্যানেলের সদস্য হওয়ার সুবাদে অত্যন্ত গোপনীয় এই প্রশ্নপত্রের নাগাল পেতে তাঁর কোনো অসুবিধা হয়নি। নিটের প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা খতিয়ে দেখার জন্য এনটিএ-র পক্ষ থেকেই সিবিআই-কে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই উঠে আসে মনীষা হাভালদারের নাম।
তদন্তকারীদের অনুমান ছিল, এনটিএ-র অন্দরেরই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই নজিরবিহীন জালিয়াতির পেছনে রয়েছে। মনীষা হাভালদার গ্রেফতার হওয়ার আগে পুণেরই আরও এক শিক্ষক মনীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই, যাঁকে এই চক্রের অন্যতম ‘মাথা’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পিভি কুলকার্নি নামে প্যানেলের আরও এক শিক্ষকও বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাচক্রে, ধৃত এই তিন জনই নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির মূল কমিটির সদস্য ছিলেন।
আতশকাচের তলায় এনটিএ-র গোটা কমিটি, ধৃতের সংখ্যা ১১
কুলকার্নি এবং মান্ধারেকে জেরা করার পর থেকেই এনটিএ-র প্রশ্ন প্রস্তুতকারক কমিটির সমস্ত সদস্য তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় চলে আসেন। এরপর তদন্তের অগ্রগতি হতেই পদার্থবিদ্যার প্রশ্ন ফাঁসের অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে মনীষা হাভালদারকে গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই সূত্রের খবর, দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা এই নিট-কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি: এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ প্যানেলের তিন শিক্ষকের যুগপৎ গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, প্রশ্ন ফাঁসের এই জাল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর শিকড় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার ভেতরেই গভীরে বিস্তৃত ছিল।
২০২৪-এর ছায়া ২০২৬-এ: স্থগিত পরীক্ষা জুনে
গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট-ইউজি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতেই দেশজুড়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে হুলস্থুল পড়ে যায়। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালেও ঠিক একইভাবে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল এবং দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন তৈরি হয়েছিল।
দুই বছরের ব্যবধানে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় এবং জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ মেলায় কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় এনটিএ। পরীক্ষা হওয়ার মাত্র ন’দিনের মাথায় পুরো পরীক্ষাটিই বাতিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২১ জুন দেশজুড়ে নতুন করে নিট-ইউজি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সিবিআই আধিকারিকদের মতে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের বাকি পান্ডাদের হদিস মিলবে খুব দ্রুত।

