চা-শিঙাড়া ছেড়ে এখন ডায়েটে প্রোটিন শেক, নিজের ফিটনেস মন্ত্র ফাঁস করলেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল

চা-শিঙাড়া ছেড়ে এখন ডায়েটে প্রোটিন শেক, নিজের ফিটনেস মন্ত্র ফাঁস করলেন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল

ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল মাঠে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের ফিটনেস নিয়েও সমান সচেতন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সকালের খাদ্যাভ্যাস বা ‘মর্নিং রুটিন’ নিয়ে এক অনন্য তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন। অক্ষর জানিয়েছেন, সকালে ভারী কোনো খাবার বা প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট) না করলেও, প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তিনি কোনো আপস করেন না।

অলরাউন্ডারের প্রোটিন-সমৃদ্ধ সকালের খাদ্যাভ্যাস

সাক্ষাৎকারে অক্ষর জানান, প্রাতরাশ বাদ গেলেও প্রোটিনের জোগান ঠিক রাখতে তিনি বিকল্প পথ বেছে নেন। তাঁর দিন শুরুর কিছু উল্লেখযোগ্য অভ্যাস নিচে দেওয়া হলো:

  • তাত্ক্ষণিক প্রোটিন: ভারী খাবার না খেলে তিনি কয়েকটি কাঠবাদাম (আমন্ড) এবং আখরোট খেয়ে নেন অথবা এক চামচ প্রোটিন পাউডার খান।
  • এনার্জি বুস্টার: শরীরে শক্তির অভাব বোধ করলে তিনি প্রোটিন শেকের সঙ্গে এক শট ‘এসপ্রেসো’ কফি মিশিয়ে নেন।
  • প্রতিদিনের চটজলদি পানীয়: সাধারণত অধিকাংশ দিন সকালে অর্ধেক কাপ দুধ, একটি কলা, ঠান্ডা জল এবং আমন্ড একসঙ্গে ব্লেন্ডারে পিষে একটি বিশেষ শেক বানিয়ে খেয়ে নেন অক্ষর।

চা-শিঙাড়ার অভ্যাস থেকে স্বাস্থ্যকর ডায়েটে রূপান্তর

আজকের দিনে কঠোর ডায়েট মেনে চললেও, অক্ষরের অতীত কিন্তু এমন ছিল না। তিনি স্বীকার করেছেন যে, একসময় একজন পেশাদার অ্যাথলিটের মতো ডায়েট চার্ট ছিল না তাঁর। আগে সকালে নিয়মিত চা, শিঙাড়া, প্যাটিজ কিংবা বড়া পাও খেয়েই দিন কাটাতেন তিনি।

পরবর্তীকালে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি স্বাস্থ্যকর ডায়েট বেছে নেন। এই প্রসঙ্গে অক্ষর বলেন,

“আমার প্রশিক্ষক (ট্রেনার) বুঝতে পেরেছিলেন যে আমার প্রাতরাশ না করার একটা প্রবণতা রয়েছে। তাই তিনি আমার জন্য এমন একটি বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন, যাতে অন্তত প্রোটিন দিয়ে আমার দিনটি শুরু হতে পারে।”

অক্ষরের সকালের মিশ্রণের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

অক্ষর প্যাটেল তাঁর সকালের পানীয়ে যে সমস্ত উপাদান ব্যবহার করেন, ক্রীড়াবিদদের শরীরে সেগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

উপাদানপুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা
আখরোটএটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
আমন্ড (কাঠবাদাম)এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এর প্রোটিন উপাদান পেশির ক্ষয় রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
দুধপ্রোটিন ও ক্যালশিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। এটি দ্রুত পেশি মেরামত করে এবং মাঠে দীর্ঘক্ষণ পারফর্ম করার শক্তি জোগায়।
প্রোটিন শেকক্রিকেটারদের জন্য এটি অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় ম্যাচ বা অনুশীলনের পর পেশির ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি ফেরাতে এটি সাহায্য করে।
কলাতাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দিতে কলার জুড়ি মেলা ভার। এর পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

বিগত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেট দলে ফিটনেসের মানদণ্ড অনেকটাই বদলে গেছে। আর অক্ষর প্যাটেলের এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে, মাঠে সফল হতে গেলে মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা কতটা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.