ওড়িশা এফসি-র বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড়সড় ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। ফেডারেশনের আপিল কমিটির শুনানির পর মিগুয়েলের নির্বাসন মাত্র এক ম্যাচ কমানো হয়েছে। ফলে তিনি আগামী দু’টি ম্যাচ—ওড়িশা এবং মুম্বই সিটি এফসি—দলের বাইরেই থাকছেন। এই জোড়া ধাক্কা সামলে নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন কোচ অস্কার ব্রুজ়ো।
মিগুয়েলের নির্বাসন ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বেঙ্গালুরু ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর মিগুয়েলকে তিন ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করেছিল ফেডারেশন। আপিল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তি এক ম্যাচ কমে দু’ম্যাচে ঠেকলেও, তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
শুনানির রায়ের আগে সাংবাদিক বৈঠকে কোচ অস্কার ব্রুজ়ো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মিগুয়েলকে প্ররোচিত করা হয়েছিল। লিয়োনেল মেসিও অতীতে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু ফিফা তাঁকে শাস্তি দেয়নি। ১৩ ম্যাচের ছোট লিগে তিন ম্যাচের নির্বাসন কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।” জানা গেছে, মুম্বই সিটি ম্যাচে মিগুয়েলকে পাওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গল পুনরায় ফেডারেশনে আবেদনের কথা ভাবছে।
চোট-আঘাত ও দলের পরিস্থিতি
মিগুয়েলের পাশাপাশি চোটের কারণে মহম্মদ রশিদ এবং আনোয়ার আলির উপস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। পয়েন্ট তালিকায় দুই নম্বরে উঠে আসার সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও, মূল ফুটবলারদের ছাড়া ওড়িশার বিরুদ্ধে এই লড়াই অস্কারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। তিনি বলেন, “ওড়িশা লিগ টেবিলের নিচের দিকে থাকলেও লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।”
রেফারিং নিয়ে বিতর্ক
মাঠের বাইরের সমস্যা ছাড়াও আইএসএলের রেফারিং নিয়ে সরব হয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। বেঙ্গালুরু ম্যাচে রেফারিদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অস্কার বলেন, “রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত একটি দলের ফল বদলে দিতে পারে। ভুল করলে সেই রেফারিকে পুনরায় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।”
কেন গোয়ায় ম্যাচ?
বিধানসভা নির্বাচনের কারণে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচটি গোয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। মাঠ সমস্যা এবং অনুশীলনের কথা মাথায় রেখে অস্কার রবিবারই পুরো দলকে নিয়ে গোয়া রওনা দিয়েছেন। এই সফরে অতিরিক্ত অনুশীলনের পাশাপাশি গোয়ার আবহাওয়া ও আর্দ্রতার সঙ্গে ফুটবলারদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ওড়িশার বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি এখন ইস্টবেঙ্গলের কাছে শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করার কঠিন পরীক্ষা।

