আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি লড়াই জারি রাখল নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার শিয়ালদহ আদালতে উপস্থিত হয়ে পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ মোট তিনজনের গ্রেফতারি এবং সিবিআই হেফাজতের আবেদন জানাল তারা। বাকি দুজন হলেন সোমনাথ দাস ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং দেহ ‘হাইজ্যাক’ করার প্রক্রিয়ায় এই তিনজন অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ ও আইনি আবেদন
নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আদালতে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার দিন নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। যথাযথ নথি পরিবারের হাতে হস্তান্তর না করেই তড়িঘড়ি দেহ দাহ করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের আইনজীবী সওয়াল করেন, “ঘটনার ঠিক পরেই নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়রা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁরা কার্যত দেহটি হাইজ্যাক করে নেন।” এছাড়া, সিবিআই ২০২৪ সালে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ার কথা বললেও তা এখনও দাখিল না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।
আদালতে সিবিআইয়ের অবস্থান
শুনানি চলাকালীন সিবিআইয়ের আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করে বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা কাকে গ্রেফতার করবে, তা কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। আমরা এই আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে চাই।” উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ৫ জুন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী তথা নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন নির্যাতিতার মা (বিজেপি প্রার্থী)। জয়ের পর বুধবারই ছিল বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে শপথের চেয়ে মেয়ের বিচারকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বিধায়ক পদের চেয়ে এটাই আমার কাছে প্রধান্য। আমার মেয়ে ছিল আমার গোটা পৃথিবী। মেয়ের জন্যই এই লড়াইটা আমাকে লড়তে হবে।”
শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি ও বিচার বিভাগীয় তৎপরতা
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, আরজি কর এবং সন্দেশখালির মতো ঘটনায় নির্যাতিতাদের বিচার দিতে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণেও তিনি মা-বোনদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিচার সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। এই আবহে নির্যাতিতার পরিবারের নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক নজরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- যাঁদের গ্রেফতারির দাবি: নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
- মূল অভিযোগ: তথ্যপ্রমাণ লোপাট, দেহ হাইজ্যাক ও ময়নাতদন্তে বাধা।
- পরবর্তী শুনানি: ৫ জুন, ২০২৬।

