গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের একাদশ প্রায় পুরোটাই বদলে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে দল নামিয়েছিলেন নরওয়ের কোচ। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের মতো তারকাদের আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মাঠে নামানোয় সম্পূর্ণ বদলে যায় দলের খেলার গতি। একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আইভোরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ইউরোপের এই দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে নুসার গোল ও হালান্ডের সুযোগ নষ্ট
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে একচেটিয়া দাপট ছিল নরওয়ের। হালান্ড এবং ওদেগার্ডদের একের পর এক আগ্রাসী আক্রমণের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। তবে প্রথমার্ধে নরওয়ের ফরোয়ার্ড লাইনের ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। দলের প্রধান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড একাই অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। কখনো তিনি বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন, আবার কখনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মারেন।
অবশেষে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙতে সফল হয় নরওয়ে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক চমৎকার শটে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আন্তনিয়ো নুসা। এই ব্যবধান বজায় রেখেই প্রথমার্ধ শেষ করে দু’দল।
দিয়ালোর জাদুকরী গোল ও আইভোরি কোস্টের সমতা
দ্বিতীয়ার্ধে যখন মনে হচ্ছিল নরওয়ের জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা, ঠিক তখনই ম্যাচের রং বদলে দেন আইভোরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো। ৭৪ মিনিটে প্রায় একার চেষ্টায় একটি জাদুকরী গোল করেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার। প্রতিপক্ষের বক্সে এক সতীর্থের সঙ্গে ‘ওয়াল পাস’ খেলে একা চার-পাঁচজন নরওয়েজিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি। বিপক্ষ শিবিরে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তারকা হালান্ডের উপস্থিতিই হয়তো দিয়ালোকে তাঁর সেরা ফুটবল উপহার দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
শেষ মুহূর্তে হালান্ডের ম্যাজিক ও নিলেন্ডের প্রাচীর
দিয়ালোর গোলে আইভোরি কোস্ট সমতায় ফিরলেও তাদের ডিফেন্স সেই গৌরব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে নরওয়ের প্যাট্রিক বার্গ প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বক্সের মধ্যে থাকা হালান্ডকে পাস বাড়ান। এবার আর ভুল করেননি ম্যান সিটির এই গোলমেশিন; পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের পঞ্চম গোল।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে আইভোরি কোস্ট সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া আক্রমণ চালালে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলেন্ড প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান। তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগে চিন্তা সুযোগ নষ্ট
আইভোরি কোস্ট বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে তাদের উপহার দেওয়া দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দর্শকদের মনে থাকবে। অন্যদিকে, ম্যাচ জিতলেও ডালাসে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগে নরওয়ে শিবিরকে নিশ্চিতভাবে চিন্তায় রাখবে তাদের অতিরিক্ত সুযোগ নষ্টের বিষয়টি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতার মতো ম্যাচ তারা শেষ মুহূর্তে নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে। ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র বা নেইমারদের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষা পার করতে হলে ফিনিশিংয়ের এই খামতি নরওয়েকে দ্রুত দূর করতে হবে।

