আইপিএলে নিজেদের ব্যাটিং শক্তির পরিচয় আরও একবার দিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অভিষেক শর্মার ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে হায়দরাবাদ ২৪২ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেয় দিল্লি ক্যাপিটালসকে। এই বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
হায়দরাবাদের ব্যাটিং তাণ্ডব
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফেরে দিল্লির জন্য। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মা ও ট্রেভিস হেড ৮.৫ ওভারে ৯৭ রান তুলে ঝড়ো সূচনা করেন। হেড ২৬ বলে ৩৭ রান করে ফিরলেও, অভিষেককে থামানো যায়নি। অধিনায়ক ঈশান কিশানের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি দিল্লির বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন চালান।
অভিষেক শর্মা মাত্র ৪৭ বলে তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতরান পূর্ণ করেন। ৬৮ বলের এই দীর্ঘ ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ১০টি ছক্কার মার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তাঁর নবম শতরান, যার মাধ্যমে তিনি বিরাট কোহলির সর্বাধিক শতরানের রেকর্ড স্পর্শ করলেন। শেষদিকে হেনরিখ ক্লাসেন ১৩ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে হায়দরাবাদকে ২৪২ রানের গণ্ডিতে পৌঁছে দেন।
দিল্লির ব্যর্থ রান তাড়া
২৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লির শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। লোকেশ রাহুল (৩৭) এবং নীতীশ রানা (৫৭) ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করলেও, রানরেটের চাপ সামলাতে গিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। ট্রিস্টান স্টাবস (২৭) এবং সমীর রিজ়ভি (৪১) লড়াই চালালেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
বোলিং পারফরম্যান্স
হায়দরাবাদের সফলতম বোলার ছিলেন এশান মালিঙ্গা, যিনি ৩২ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হর্ষ দুবে ১২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লির ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। দিল্লির বোলারদের মধ্যে কেউই হায়দরাবাদের ব্যাটারদের রুখতে পারেননি। নীতীশ রানা ৫৫ রান দিয়েও কোনো উইকেট পাননি, যা দিল্লির হারের অন্যতম কারণ।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অপরদিকে, দিল্লির বোলারদের ব্যর্থতা এবং রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং ধস তাদের টুর্নামেন্টে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

